পুজোর আগেই পকেট ভারী হবে বেকার যুবকদের! কোন কোন নথিতে মিলবে এই টাকা? দেখে নিন বিরাট আপডেট!

সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক চর্চা। রাজ্যের বেকার যুবক-যুববতীদের কর্মসংস্থান ও আর্থিক স্বনির্ভরতার কথা মাথায় রেখে এবার এক যুগান্তকারী প্রকল্প নিয়ে হাজির হয়েছে সরকার। ক্ষমতায় আসার পরই বিজেপি সরকার রাজ্যের মহিলাদের জন্য ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ সফলভাবে চালু করেছিল। আর এবার বেকার যুবকদের মুখে হাসি ফোটাতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘যুবশক্তি’ প্রকল্প। চলতি সেপ্টেম্বর মাস থেকেই এই প্রকল্পের জন্য অফিশিয়াল আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে, যা রাজ্যের লাখ লাখ বেকার যুবকের ভাগ্য বদল করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে বিশেষ ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো কর্মহীন তরুণ-তরুণীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। অতীতে অন্য সরকারের জমানায় চালু থাকা বেকার ভাতার মডেলে নামমাত্র টাকা দেওয়া হলেও, বর্তমান এই নতুন প্রকল্পে তার পরিমাণ করা হয়েছে দ্বিগুণ। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, স্নাতক পাশ বেকার যুবকরা এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি মাসে সরাসরি ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি, যাঁরা কেবল মাধ্যমিক পাশ করেছেন, তাঁরা পাবেন প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা করে বেকার ভাতা। আগামী অক্টোবর মাস থেকেই এই ভাতার টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।
এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং তাঁকে স্থায়ীভাবে এই রাজ্যেরই বাসিন্দা হতে হবে। ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে মাধ্যমিক পাশ করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়া সফল করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সঙ্গে রাখা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনীয় নথির তালিকায় রয়েছে প্রার্থীর সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি, ভোটার কার্ড, জন্ম শংসাপত্র, মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সম্পূর্ণ বিবরণ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সমস্ত অরিজিনাল সার্টিফিকেট। এই সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি এবং আধার কার্ড সঠিকভাবে সংযুক্ত না থাকলে আবেদনপত্র বাতিল হতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ আর্থিক লেনদেন অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হবে। সমস্ত উপভোক্তার প্রাপ্য টাকা কোনো রকম দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর ঝামেলা ছাড়াই ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ বা ডিবিটি (DBT) পদ্ধতির মাধ্যমে সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত করা হবে। পুজোর মরশুমের ঠিক আগে বেকার ভাতার এই বিশাল অংকের ঘোষণা রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের মনে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে। তাই দেরি না করে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রেখে দ্রুত ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’-এর জন্য আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।