দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কেরলের প্রতিষ্ঠা দিবস বা ‘কেরল পিরাভি’ দিনে রাজ্য পেল এক ঐতিহাসিক শিরোপা। ভারতের প্রথম রাজ্য হিসেবে কেরল চরম দারিদ্র্য পুরোপুরি নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে। শনিবার বিধানসভায় এই ঐতিহাসিক ঘোষণা করেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।মুখ্যমন্ত্রীর ভাষায়, “কেরল পিরাভির এই দিনটি ইতিহাসে জায়গা করে নিল। আমরা আজ ঘোষণা করছি, কেরল এখন চরম দারিদ্র্যমুক্ত প্রথম ভারতীয় রাজ্য। নতুন কেরল গঠনের পথে এ এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।”২০২১ সালে নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল—”চরম দারিদ্র্য দূর করাই হবে সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।” আর সেই লক্ষ্য পূরণে গত চার বছরে ধাপে ধাপে কাজ করেছে রাজ্য সরকার।কেরলের সাফল্যের ভিত (৪ বছরের ডেটা):কেরল ইতিমধ্যেই দেশের প্রথম ১০০ শতাংশ সাক্ষরতা প্রাপ্ত রাজ্য, প্রথম ডিজিটাল সাক্ষরতা প্রাপ্ত রাজ্য এবং সম্পূর্ণ বিদ্যুতায়িত রাজ্যের স্বীকৃতি পেয়েছিল। এবার দারিদ্র্য দূরীকরণে যুক্ত হলো নতুন পালক।সহায়তা ক্ষেত্রপরিমাণ/সংখ্যানিশ্চিত খাবার সরবরাহ২০,৬৪৮ দরিদ্র পরিবারচিকিৎসা ও ওষুধ৮৫,৭২১ জননতুন বাড়ি তৈরি/নির্মাণাধীন৫,৪০০-এরও বেশিপুরোনো বাড়ির মেরামতি৫,৫২২টিভূমিহীন পরিবারকে জমি বরাদ্দ২,৭১৩টিপ্রথমবার নথি প্রদান (রেশন/পেনশন)২১,২৬৩ জনজীবিকা প্রকল্পের সহায়তা৪,৩৯৪ পরিবারএই প্রকল্পে ১০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ‘একই নীতি সবাইকে’ এই ধারণার বদলে প্রতিটি পরিবারের বিশেষ প্রয়োজন চিহ্নিত করেই তৈরি হয়েছিল ৬৪,০০৬টি ক্ষুদ্র পর্যায়ের পৃথক পরিকল্পনা।রাজনৈতিক বিতর্ক:তবে ঘোষণার দিনই বিরোধীপক্ষ এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘বিধানসভার নিয়ম লঙ্ঘন’ বলে অভিযোগ তুলে ওয়াকআউট করে।জবাবে মুখ্যমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমরা যা বলি, তা করি। যা করেছি, সেটিই আজ প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।”প্রশাসনিক পরিকল্পনা, স্থানীয় সংস্থার সক্রিয়তা ও রাজনৈতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাজের সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছানোর এই উদাহরণ অন্য রাজ্যগুলির জন্য দেশে দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
Home
OTHER NEWS
‘পিরাভি দিবসে ইতিহাসে জায়গা নিল কেরল’! ২০,৬৪৮ পরিবারকে নিশ্চিত খাবার, ৫,৪০০ নতুন বাড়ি—কীভাবে সাফল্য পেল রাজ্য?





