পিএইচডি করার স্বপ্ন এবার পূরণ হবে ঘরে বসেই! ইগনু-তে ৩৬টি বিষয়ে ভর্তির সুযোগ, জানুন আবেদনের নিয়ম

উচ্চশিক্ষার পথে যারা গবেষণাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চান, তাদের জন্য সুখবর নিয়ে এল ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (IGNOU)। জুলাই ২০২৬ সেশনের জন্য ৩৬টি বিভিন্ন বিষয়ে পিএইচডি কোর্সে ভর্তির অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে এই স্বনামধন্য কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আপনি যদি একজন আগ্রহী শিক্ষার্থী হন, তবে আগামী ১ জুলাই, ২০২৬-এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল পোর্টাল ignou-phd.samarth.edu.in-এর মাধ্যমে আপনার আবেদন সম্পন্ন করতে পারেন।

বিষয় ও ভর্তির যোগ্যতা
ইগনু-র এই পিএইচডি তালিকায় মনোবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, লোকপ্রশাসন, প্রাণরসায়ন, রসায়নসহ ৩৬টি ভিন্নধর্মী বিষয় রয়েছে। ইউজিসি (UGC) রেগুলেশন, ২০২২ অনুযায়ী পরিচালিত এই ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রিতে ন্যূনতম ৫৫% নম্বর থাকলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। সংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থীদের জন্য এই যোগ্যতা ৫০% নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, চার বছরের স্নাতক ডিগ্রিধারীরা, যাদের ন্যূনতম ৭৫% নম্বর রয়েছে, তারাও পিএইচডি-র জন্য আবেদন করার যোগ্য।

নির্বাচন প্রক্রিয়া ও বিভাগসমূহ
বিশ্ববিদ্যালয় চারটি পৃথক বিভাগের মাধ্যমে মেধাবী গবেষক নির্বাচন করবে:
১. জেআরএফ সহ ইউজিসি-নেট উত্তীর্ণ।
২. ইউজিসি-নেট (সহকারী অধ্যাপক ও পিএইচডি-র জন্য যোগ্য)।
৩. ইউজিসি-নেট (শুধুমাত্র পিএইচডি-র জন্য যোগ্য)।
৪. বিশ্ববিদ্যালয়-স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষা।

নির্বাচন প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ইন্টারভিউ বা মৌখিক পরীক্ষা। তবে জেআরএফ এবং নেট উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কোনো লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে না, তারা সরাসরি সাক্ষাৎকারে বসার সুযোগ পাবেন। নির্বাচিত গবেষকদের অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত কোর্সওয়ার্ক সম্পন্ন করতে হবে এবং কমপক্ষে ৮০% উপস্থিতি বজায় রাখতে হবে।

আবেদন পদ্ধতি

প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ignou-phd.samarth.edu.in-এ যান।

‘নতুন নিবন্ধন’ (New Registration) অপশনে ক্লিক করে নিজের নাম ও তথ্যাদি প্রদান করুন।

এরপর লগইন করে আবেদনপত্রটি নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।

আবেদন ফি হিসেবে ২,০০০ টাকা অনলাইনের মাধ্যমে পরিশোধ করে ফর্মটি সাবমিট করুন।

সময়ের সীমাবদ্ধতা
ইগনু পিএইচডি সম্পন্ন করার জন্য ন্যূনতম তিন বছর এবং সর্বোচ্চ ছয় বছর সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। নারী প্রার্থী এবং ৪০ শতাংশ বা তার বেশি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন গবেষকদের বিশেষ ছাড় হিসেবে অতিরিক্ত আরও দুই বছর সময় দেওয়া হবে। গবেষণার মান বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই কঠোর কিন্তু নমনীয় নিয়মাবলী গবেষকদের জন্য বেশ সহায়ক হবে। তাই দেরি না করে দ্রুত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিজেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা পরিবারের সদস্য হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তুতি শুরু করুন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy