পা ভাঙার দাবি নাকি পুরোটাই মিথ্যাচার? ২০২১ সালের চিকিৎসার নথি প্রকাশ্যে আসতেই তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ের একটি পুরনো চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি জনসমক্ষে চলে আসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আইনি পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ৫ অক্টোবর সকালে আইনজীবী অর্ক নাগের মাধ্যমে ই-মেইলের মাধ্যমে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের ডিরেক্টর, এমএসভিপি এবং নিউরোলজি বিভাগের প্রধান (HOD)-কে একটি কড়া আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন তিনি। ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট, ২০২৩-এর নিয়ম লঙ্ঘন করে কীভাবে একজন রোগীর গোপন মেডিক্যাল রিপোর্ট জনসমক্ষে এল এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তৈরি হলো, সেই বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
আইনি চিঠিতে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, অষ্টম মুখ্যমন্ত্রীর গোপনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি কীভাবে বর্তমান বা নবম মুখ্যমন্ত্রী প্রদর্শন করতে পারেন? যদি ওই নথিগুলির কোনো বিকৃতি ঘটে থাকে, তবে অবিলম্বে এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তা খতিয়ে দেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যাতে কোনো চিকিৎসাধীন রোগীর ব্যক্তিগত নথি এভাবে প্রকাশ্যে না আসে, সে বিষয়েও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের ভোট প্রচারের সময়কার একটি চাঞ্চল্যকর মেডিক্যাল রিপোর্ট তুলে ধরেছিলেন। বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সের ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল যে, তৎকালীন সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ভেঙে যাওয়ার বা ডিসলোকেশনের কোনো প্রমাণ মেলেনি। এই প্রসঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও সুর চড়ান। এই পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক আক্রমণের মাঝেই গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে সরাসরি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের পথে হেঁটেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।