বর্ষা আসন্ন। প্রতি বছরের মতো এবারও পাহাড়ের দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আগেভাগেই প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাহাড়ের নিরাপত্তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলা নিয়ে আজ সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন তিনি। বৈঠকে বিমল গুরুং-সহ পাহাড়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে উন্নয়ন ও সুরক্ষার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের মাঝেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে পাহাড়ের উন্নয়ন ও অগ্রাধিকার নিয়ে সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানের এই দুর্যোগ প্রস্তুতির সাথে তুলনা টেনে তিনি মমতাকে নিশানা করে বলেন, “পাহাড়ের মানুষ যখন দুর্যোগে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কায় থাকেন, তখন পূর্বতন সরকার মা দুর্গাকে নিয়ে প্যারেড বা কার্নিভালে ব্যস্ত থাকত। আমাদের কাছে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা আগে, উৎসব পরে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার জন্ম দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, পাহাড়ের পরিকাঠামো মজবুত করা এবং বর্ষায় যাতে ধস বা প্লাবনের মতো ঘটনায় মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কম হয়, সেদিকে সরকার বিশেষ নজর দিচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলার সরঞ্জাম মজুত রাখা থেকে শুরু করে পাহাড়ি জনপদগুলিতে সতর্কতা জারির নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
পাহাড়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা কমিয়ে উন্নয়নকে প্রাধান্য দেওয়াই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রশাসনিক এই অগ্রিম পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটা স্বস্তি ফেরায়, এখন সেটাই দেখার।





