পাহাড়ে পর্যটনের ‘সুপারহিট’ খেলোয়াড়! রেকর্ড আয় ও যাত্রী সংখ্যায় ইতিহাস গড়ল টয়ট্রেন

কুউউ… ঝিকঝিক! শৈলশহরের বাঁকে বাঁকে বাষ্পীয় ইঞ্জিনের সেই পরিচিত শব্দ আর নীলরঙা বগি— দার্জিলিং হিমালায়ন রেলওয়ে (DHR) বা টয়ট্রেন এখন পাহাড়ের পর্যটনের প্রধান চালিকাশক্তি। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, টয়ট্রেনে চড়ার শখ মেটাতে পর্যটকদের ভিড় এতটাই বেড়েছে যে, যাত্রী সংখ্যা এবং আয়ের ক্ষেত্রে পূর্বের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।

রেকর্ড ভাঙা পরিসংখ্যান: দার্জিলিং হিমালায়ন রেলওয়ে সূত্রে খবর, গত অর্থবর্ষের তুলনায় এবার পর্যটকদের সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। জয় রাইড থেকে শুরু করে দার্জিলিং-কার্শিয়াং রুটে নিয়মিত টয়ট্রেন পরিষেবা— সবক্ষেত্রেই টিকিট বুকিং এখন আকাশছোঁয়া। ফলে রেলের কোষাগারে আয়ের পরিমাণ অতীতের যেকোনো সময়ের রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেছে।

কেন এই আকস্মিক বৃদ্ধি? পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে পাহাড়ের পরিস্থিতি শান্ত থাকা এবং সড়কপথের উন্নতির পাশাপাশি টয়ট্রেনের ঐতিহ্য বজায় রাখা পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে। বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের কাছে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ এই টয়ট্রেন আজও অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এছাড়া সিজন অনুযায়ী বিশেষ ‘স্টিম জঙ্গল সাফারী’ এবং সান্ধ্যকালীন ট্রেনের ব্যবস্থাও পর্যটক টানতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।

আশাবাদী ব্যবসায়ীরা: টয়ট্রেনের এই সাফল্যে খুশি পাহাড়ের হোটেল ও পর্যটন ব্যবসায়ীরাও। তাঁদের মতে, টয়ট্রেন যত সচল থাকবে, পাহাড়ের অর্থনীতি তত শক্তিশালী হবে। আয়ের এই রেকর্ড বৃদ্ধি প্রমাণ করছে যে, আধুনিক যাতায়াতের ভিড়েও হেরিটেজ ট্রেনের মহিমা এক চুলও কমেনি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: রেল কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এই সাফল্য ধরে রাখতে ট্রেনের বগি সংস্কার এবং আরও বেশি করে জয় রাইড চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে অনলাইন বুকিং ব্যবস্থাকেও আরও উন্নত করা হচ্ছে।

পাহাড়ের ধোঁয়া ওঠা চা আর টয়ট্রেনের জানলায় বসে হিমালয় দর্শন— এই মেলবন্ধনই এখন দার্জিলিং-এর লক্ষ্মীলাভের প্রধান চাবিকাঠি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy