পারিবারিক বিবাদের চরম পরিণতি! পুত্রবধূ ও শাশুড়িকে নৃশংসভাবে খুন করে আত্মহত্যার চেষ্টা বৃদ্ধের

গুজরাটের ভারুচ জেলায় এক ভয়াবহ ও লোমহর্ষক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যা শুনে শিউরে উঠেছে গোটা এলাকা। সম্পত্তি বা পারিবারিক অশান্তির জের ধরে এক বৃদ্ধ তার পুত্রবধূ ও শাশুড়িকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করেছেন বলে অভিযোগ। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের পরই অভিযুক্ত বৃদ্ধ নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারুচের ভোরাভাদ ও কোঠি এলাকার বাসিন্দা জয়নুল আব্বাস জানোরওয়ালা দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক বিবাদে জর্জরিত ছিলেন। অভিযোগ, আজ সকালে আচমকাই তিনি ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ চালান তার পুত্রবধূ আলিফিয়া ইউসুফ জানোরওয়ালা এবং আলিফিয়ার মা শাহনাজ নামকওয়ালার ওপর। বর্বরোচিত এই হামলায় ঘটনাস্থলেই মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধবোধ কিংবা ভয়ে জয়নুল আব্বাস নিজেই নিজের হাত, পা ও গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে তড়িঘড়ি ভারুচ সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি বর্তমানে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন।

ভারুচের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (এসপি) এম.এম. গাঙ্গুলী জানিয়েছেন, কোঠি এবং পারসিওয়াড় এলাকার দুটি পৃথক বাড়ি থেকে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি পারিবারিক অশান্তির জের বলে মনে করছে পুলিশ। নিহত আলিফিয়ার স্বামী ডা. ইউসুফ জানোরওয়ালা একজন বিএইচএমএস চিকিৎসক। কোঠি এলাকায় ‘বুরহানি’ নামে তার একটি ক্লিনিক রয়েছে এবং তাদের দুই সন্তানও রয়েছে। পরিবারের অন্দরে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিশ ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ থেকেই এই নৃশংসতার জন্ম। পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত জানতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর এবং অভিযুক্ত বৃদ্ধ জ্ঞান ফিরলে আসল রহস্য পরিষ্কার হবে বলে পুলিশ আশা করছে। তবে গোটা এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy