দেশের বর্তমান পাবলিক পরীক্ষা পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা ভাবছে সরকার। প্রচলিত পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় আমূল রূপান্তরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে মানসিক চাপ কমানো এবং শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল মুখস্থ নির্ভর পরীক্ষা পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে ব্যবহারিক ও সৃজনশীল মেধা যাচাইয়ের ওপর জোর দেওয়া হতে পারে।
কী কী পরিবর্তন আসতে পারে? সরকারের নতুন এই পরিকল্পনার মূলে রয়েছে কয়েকটি বিষয়:
মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বদল: শুধু তিন ঘণ্টার একটি পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীর মেধা যাচাই না করে বছরব্যাপী ধারাবাহিক মূল্যায়নের (Continuous Assessment) ওপর জোর দেওয়া হতে পারে।
জিপিএ ব্যবস্থার সংস্কার: গ্রেডিং পদ্ধতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা কমানোর চিন্তাভাবনা চলছে।
ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসার: তাত্ত্বিক জ্ঞানের চেয়ে হাতে-কলমে শেখার বিষয়গুলো পরীক্ষায় বেশি গুরুত্ব পেতে পারে।
কেন এই উদ্যোগ? বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতিতে অনেক সময় শিক্ষার্থীর প্রকৃত দক্ষতা ফুটে ওঠে না। এছাড়া পরীক্ষার সিজন এলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে যে তীব্র মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয়, তা নিরসন করা সরকারের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সরকারের এই নতুন রূপরেখা কার্যকর হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব পক্ষের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি সুসংহত কাঠামো তৈরি করতে চাইছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।





