পাড়ার গসিপ বিক্রি করে দুটি বিশাল বাড়ি! ৬৭ বছরের নারীর এই আজব ব্যবসা দেখে হতবাক খোদ শিল্পপতিরাও

অন্যের বাড়ির খোঁজখবর রাখা বা পাড়া-প্রতিবেশীর মুখরোচক গল্পগুজব করাকে সাধারণ মানুষ প্রায়শই সময়ের অপচয় বা নিছক ফালতু কাজ বলে মনে করেন। কিন্তু কলম্বিয়ার ৬৭ বছর বয়সী এক নানি এই সাধারণ অভ্যাসটিকে এমন এক তাক লাগানো সফল স্টার্টআপে পরিণত করেছেন, যা দেখলে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরাও অবাক হয়ে যাবেন। হ্যাঁ, অন্যের গোপন কথা এবং পাড়ার গসিপের এক অভিনব বাজার তৈরি করে তিনি নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে ইতিমধ্যে দুটি বিশাল বাড়ি বানিয়ে ফেলেছেন।
গালফ টুডে-র একটি বিশিষ্ট প্রতিবেদন অনুসারে, কলম্বিয়ার আর্মেনিয়ায় বসবাসকারী ৬৭ বছর বয়সী মিরিয়াম প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, সঠিক বুদ্ধি থাকলে যেকোনো সাধারণ বিষয় থেকেই মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। মিরিয়ামের এই অদ্ভুত ও অভিনব ব্যবসাটি আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তাঁর মূল কাজ হলো বাড়ির বাইরে একটি আরামদায়ক চেয়ারে চুপচাপ বসে পাড়ার ছোট-বড় সমস্ত কার্যকলাপের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা। কার বাড়িতে কোন নতুন ঘটনা ঘটছে, কার সঙ্গে কার মনমালিন্য বা ঝগড়া হয়েছে কিংবা কে গোপনে কার সঙ্গে দেখা করতে আসছে—এই ধরনের সমস্ত খুঁটিনাটি গোপন তথ্য নিখুঁতভাবে মিরিয়ামের নখদর্পণে থাকে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, মিরিয়াম এই পরচর্চার অভ্যাসটিকে সম্পূর্ণ একটি পেশাদার ব্যবসায় রূপ দিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে নিজেকে একজন প্রফেশনাল ‘চিসমোসা’ বা ‘গসিপ কুইন’ (Gossip Queen) বলে পরিচয় দেন। পাড়ার সাধারণ মানুষ যখনই অন্য কোনো প্রতিবেশীর কোনো গোপন বা মুখরোচক খবর জানতে উদগ্রীব হয়ে ওঠেন, তখন তাঁরা সোজা মিরিয়ামের দরজায় গিয়ে হাজির হন। তবে মিরিয়াম কখনোই কাউকে কোনো খবর বিনামূল্যে সরবরাহ করেন না। সাধারণ ও ছোটখাটো খবরের জন্য তিনি ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ কলম্বিয়ান পেসো (প্রায় ১৫০ থেকে ৩০০ ভারতীয় টাকা) ফি নেন। আর যদি খবরে কোনো বিরাট বা চাঞ্চল্যকর গোপন তথ্য জড়িত থাকে, তবে তার দামও সেই অনুপատেই বেশ চড়া হয়। নিজের জীবনের সবচেয়ে দামী গসিপ বিক্রির কথা বলতে গিয়ে মিরিয়াম জানান, এক ব্যক্তি যখন তাঁর স্ত্রীর আড়ালে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলেন, তখন সেই গোপন তথ্য ফাঁস না করার শর্তে তিনি ওই ব্যক্তির কাছ থেকে এক ধাক্কায় ৭,০০,০০০ কলম্বিয়ান পেসো (প্রায় ২১,০০০ টাকা) আদায় করেছিলেন।
মিরিয়ামের এই কাজের পদ্ধতিও অত্যন্ত নিখুঁত ও পেশাদার। তিনি সাধারণ মানুষের মতো হাওয়ায় তীর ছোড়েন না, বরং একজন পোড়খাওয়া সাংবাদিকের মতো অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেন। তাঁর কাছে একটি বিশেষ মোটা নোটবুক রয়েছে, যেখানে তিনি সমস্ত ঘটনার সঠিক তারিখ এবং সময় সহ সমস্ত গুজব লিখে রাখেন। শুধু তাই নয়, তাঁর বাড়ির ভেতরে একটি অভিনব ‘গসিপ বোর্ড’ রয়েছে, যেখানে তিনি বিভিন্ন ছবি, কাগজ এবং লাল সুতো ব্যবহার করে প্রতিবেশীদের সমস্ত গোপন তথ্য ও সম্পর্কের জাল জুড়ে রেখেছেন। যদিও তাঁর এই অনধিকার চর্চার কারণে অনেক প্রতিবেশী তাঁর ওপর প্রবল বিরক্ত এবং ক্ষুব্ধ হন, তবুও নিজেদের দুরন্ত কৌতূহল দমন করতে না পেরে খবরের টানে সবাই তাঁরই দরজায় ভিড় জমান।