চাকরি যাওয়ার পরেও নোটিস Period-এ রোজ অফিসে যাওয়ার চাপ! HR-কে কড়া জবাব দিয়ে ভাইরাল কর্মী

চাকরি থেকে ছাঁটাই হওয়া এমনিতেই একটি অত্যন্ত মানসিক চাপের অভিজ্ঞতা। কিন্তু তার ওপর যদি নোটিস পিরিয়ড চলাকালীন কর্মীকে জোর করে অফিসে ফিরে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে পরিস্থিতি আরও হতাশাজনক হয়ে ওঠে। সম্প্রতি এক ছাঁটাই হওয়া কর্মী প্রশ্ন তুলেছেন, যখন তাঁর বর্তমান দায়িত্ব মূলত অন্যদের নলেজ ট্রান্সফার বা প্রশিক্ষণ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তখন প্রতিদিন কষ্ট করে কর্মস্থলে গিয়ে রিপোর্ট করার আদৌ কোনো যৌক্তিকতা আছে কি না।

“I got laid off serving notice period, don’t wanna go office anymore, should I negotiate WFH further if HR say no?” এই শিরোনামে রেডিটে একটি পোস্ট করে হইচই ফেলে দিয়েছেন ওই ব্যক্তি। পাশাপাশি তিনি এইচআর-এর সঙ্গে তাঁর চ্যাট বা কথোপকথনের স্ক্রিনশটও শেয়ার করেছেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে, এইচআর কর্মীকে অবিলম্বে অফিস থেকে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিচ্ছেন, যাতে নলেজ ট্রান্সফার (কেটি) প্রক্রিয়াটি আরও মসৃণ হতে পারে।

কিন্তু কর্মী এই নির্দেশ সরাসরি মেনে নেননি। তিনি এর প্রতিবাদ করে জানান যে, কেটি সেশন ইতিমধ্যেই গুগল মিটের মাধ্যমে অত্যন্ত সফলভাবে চলছে। তিনি এইচআর-কে উদ্দেশ্য করে লেখেন, “কিন্তু ম্যাম, কেটি তো আমি এমনিতেই গুগল মিটে দিই, অফিসে এসেও তো ঠিক সেটাই করব। তাই আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করতে চেয়েছিলাম, আমার শেষ কর্মদিবস পর্যন্ত যদি আমি বাড়ি থেকে কাজ (WFH) চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাই।” এর জবাবে এইচআর কোনো রাখঢাক না রেখেই সাফ জানিয়ে দেন, “না”, অর্থাৎ অফিসেই আসতে হবে।

এই কঠোর মনোভাবের মুখে পড়ে কর্মীও হাল ছাড়েননি। তিনি এইচআর-কে স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দেন যে, তিনি ইতিমধ্যেই নোটিস পিরিয়ডে আছেন এবং তাঁর একমাত্র কাজ হলো কেটি দেওয়া। এই পরিস্থিতিতে অফিসে তাঁর শারীরিক উপস্থিতির কোনো অপারেশনাল বা কার্যকরী প্রয়োজনীয়তা নেই। তিনি সাফ জানান, কেটি যখন গুগল মিটেই হচ্ছে এবং তিনি কোম্পানির কোনো অতিরিক্ত সরঞ্জাম বা পরিকাঠামোও ব্যবহার করছেন না, তখন অকারণে যাতায়াতের কোনো মানে হয় না।

এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পোস্ট শেয়ার হওয়ার পরেই তা নিয়ে কর্পোরেট মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। ইন্টারনেটের নেটিজেনরা বিভিন্নমুখী পরামর্শ দিয়েছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, যদি ওই কর্মীকে ইতিমধ্যেই ছাঁটাই করা হয়ে থাকে, তবে কেন তাঁকে জোর করে নোটিস পিরিয়ড সার্ভ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। আবার অনেকেই তাঁকে কেটি সেশনের জন্য বাড়তি পারিশ্রমিক দাবি করার অথবা সংস্থার অফিস থেকে কাজ করার নির্দেশটি বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করার পরামর্শ দিয়েছেন। সবমিলিয়ে কর্পোরেট সংস্কৃতির এই ছবি এখন নেটদুনিয়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে।