পাটনা: বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫-কে সামনে রেখে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (NDA)-এর দুই প্রধান শরিক ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) এবং জনতা দল ইউনাইটেড (JD(U)) নিজেদের ১০১টি করে আসনের জন্য সম্পূর্ণ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। টিকিট বণ্টন নিয়ে দুই দলের নেতাদের মধ্যে অসন্তোষের খবর থাকলেও, জোটের সামগ্রিক সাফল্যের জন্য উভয় দলই একটি ‘সঠিক অঙ্ক’ কষতে চেয়েছে, যেখানে রাজ্যের বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিজেপি-র তালিকা: ১৬ জন বিদায়ী বিধায়ক বাদ, উচ্চবর্ণের প্রতি আস্থা অটুট
গত নির্বাচনে ১১০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিজেপি এবার ১০১টি আসনে লড়ছে। এই কারণে কিছু রদবদল অনিবার্য ছিল। দলের তালিকা থেকে ১৬ জন বিদায়ী বিধায়ককে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বিজেপির জাতপাতের সমীকরণ (১০১ আসন):
সাধারণ শ্রেণী (General Category): ৩৪টি আসন
রাজপুত: ১৫
ভূমিহার: ১১
ব্রাহ্মণ: ৭
কায়স্থ: ১৫ (এই তথ্যটি সামগ্রিক সাধারণ শ্রেণীর আসনের সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সম্ভবত কায়স্থদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে)।
ওবিসি (OBC): ২০টি আসন
অত্যন্ত অনগ্রসর শ্রেণী (EBC): ১১টি আসন
তফসিলি জাতি (SC): ৫টি আসন
তফসিলি উপজাতি (ST): ১টি আসন
মহিলা: মোট ১৩ জন প্রার্থীকে টিকিট দেওয়া হয়েছে।
বিজেপি-র প্রথাগত ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত সাধারণ শ্রেণীকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও, দল অন্যান্য শ্রেণীকে যথেষ্ট প্রতিনিধিত্ব দিয়ে রাজ্যে নিজেদের ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে।
উল্লেখযোগ্য রদবদল:
বিজেপি তাদের দুই উপ-মুখ্যমন্ত্রী— সম্রাট চৌধুরী এবং বিজয় কুমার সিনহা-কে পুনরায় টিকিট দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে পাটনা সাহিব আসন থেকে বাদ পড়েছেন বিধানসভার স্পিকার নন্দ কিশোর যাদব, তাঁর জায়গায় প্রার্থী হয়েছেন রত্নেশ কুশওয়াহা। এছাড়া রিগা থেকে মতিলাল প্রসাদ, রাজনগর থেকে রামপ্রীত পাসওয়ান সহ বেশ কয়েকজন বিদায়ী বিধায়ককেও এবার টিকিট দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, লোক গায়িকা মৈথিলী ঠাকুর সহ দ্বিতীয় তালিকায় ৯ জন নতুন মুখকে সুযোগ দিয়েছে বিজেপি।
জেডিইউ-এর তালিকা: মুসলিম শূন্যতা, কুর্মি-কুশওয়াহায় ভরসা নীতিশের
জনতা দল ইউনাইটেড (জেডিইউ)-ও ১০১ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে।
মুসলিম ফ্যাক্টর: জেডিইউ-এর প্রথম তালিকায় মুসলিম সম্প্রদায়ের কোনো প্রার্থীর নাম ছিল না, যা বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ২০২০ সালের নির্বাচনে জেডিইউ ১১ জন মুসলিম প্রার্থী দিয়েছিল এবং এর আগে ২০১০ সালেও ১১ জন মুসলিম মুখ ছিল। এবার সেই সংখ্যা কমিয়ে মাত্র ৪-এ আনা হয়েছে।
সূত্রের খবর, গত নির্বাচনে জেডিইউ-এর কোনো মুসলিম প্রার্থী জিততে না পারায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই চারজনকেই দ্বিতীয় তালিকায় রাখা হয়েছে। তাঁরা হলেন: চেইনপুর থেকে জামা খান, আমৌস থেকে সাবা জাফর, জোকিহাট থেকে মনজার আলম এবং আরারিয়া থেকে শাগুপ্তা আজিম।
জেডিইউ-এর জাতপাতের সমীকরণ:
জেডিইউ ঐতিহ্যগতভাবে আরজেডি-র শক্তিশালী মুসলিম-যাদব (MY) সমীকরণ ভাঙার চেষ্টা করে আসছে। মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার নিজে যে কুর্মি সম্প্রদায়ের, সেই কুর্মি ও কুশওয়াহা (Kushwaha) গোষ্ঠী এবং অত্যন্ত অনগ্রসর শ্রেণী (EBC)-কে উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনগ্রসর শ্রেণী (Backward Classes): ৩৭
অত্যন্ত অনগ্রসর শ্রেণী (EBC): ২২
সাধারণ শ্রেণী (General Category): ২২
তফসিলি জাতি (SC): সংরক্ষিত আসনের জন্য ১৫ জন
তফসিলি উপজাতি (ST): ১
মহিলা: প্রথম ও দ্বিতীয় তালিকা মিলিয়ে মোট ১৭ জন মহিলা প্রার্থীকে টিকিট দেওয়া হয়েছে।
প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিহারের ক্ষমতা ধরে রাখতে বিজেপি ও জেডিইউ যৌথভাবে অত্যন্ত সূক্ষ্ম জাতপাতের সমীকরণ কষতে চেয়েছে। এই ‘এনডিএ ক্যালকুলাস’ রাজ্যে তাদের জয় এনে দিতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
পাঠকের প্রশ্ন: আপনার মতে, জেডিইউ-এর মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত কি ভোটের ফলকে প্রভাবিত করবে? কমেন্টে আপনার বিশ্লেষণ জানান।