আমরা অনেকেই জনগণনা বা আদমশুমারি সম্পর্কে জানি, কিন্তু হাজার হাজার পাখিকে কীভাবে গণনা করা হয়, সেই ‘পাখি শুমারি’ (Bird Count) পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেই অনেকেরই। এবার সেই চমকপ্রদ পদ্ধতি ব্যবহার করেই মালদহের আদিনা ডিয়ার পার্কে শামুকখোল পাখিদের গণনা করল জেলা বন দফতর।
বিগত প্রায় কয়েকশো বছর ধরে এই আদিনা ডিয়ার পার্কে কলোনি করে বসবাস করছে হাজার হাজার শামুকখোল পাখি।
মালদহ জেলা বন দফতরের উদ্যোগে এই শামুকখোল পাখিদের গণনা করা হয়। জেলা বন দফতরের গবেষণা সহকারী শুভ্র পাল জানান, এই গণনার প্রক্রিয়ায় মোট ১২ জন বন দফতরের সদস্য দু’টি টিমে ভাগ হয়ে কাজ করেন। পদ্ধতিটি নিম্নরূপ:
১. গাছে নম্বর: যে সকল গাছে পাখিদের বাসা থাকে, সেই গাছের প্রজাতির নাম দেখে তার উপর নম্বর দেওয়া হয়। ২. বাসা গণনা: গাছের গোলাকার আকৃতি এবং সেই গাছে পাখির কতগুলি বাসা রয়েছে, তা গণনা করে খাতায় লেখা হয়। ৩. পাখির সংখ্যা: বন দফতরের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বাসায় স্ত্রী, পুরুষ ও ছানা পাখি মিলিয়ে মোট তিনটি পাখির হিসেব ধরা হয়। ৪. রিপোর্ট তৈরি: ডিয়ার পার্কের পাখির বাসা যুক্ত সমস্ত গাছের গণনার পর মোট হিসেব করে পাখি শুমারির চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করা হয়।
বন দফতরের আধিকারিকরা জানান, এই বছর আদিনা ডিয়ার পার্কে আনুমানিক ১৬ হাজার পাখি রয়েছে।
প্রতিবছরই জুন মাসের পর থেকে মালদহের আদিনা ডিয়ার পার্কে শামুকখোল পাখির আগমন শুরু হয়। প্রায় ছয় মাস থাকার পর বছরের শেষের দিকে তারা ভিন রাজ্য ও বিদেশে পাড়ি দেয়। পাখিদের চলে যাওয়ার আগেই এই শুমারি করা হয়।