বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারত এখন আর কোনও ‘ফলোয়ার’ নয়, বরং একজন ‘ডিসিশন মেকার’। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আবহে যখন আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলি রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা জারি করছিল, তখন ভারত নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছে। পশ্চিমা দেশগুলির রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত কার থেকে তেল কিনবে, তার জন্য কোনও বিদেশি শক্তির অনুমতির প্রয়োজন নেই।
জাতীয় স্বার্থই শেষ কথা: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার প্রমাণ করেছেন যে, ভারতের কূটনীতি এখন ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ নীতিতে চলে। ইউরোপ যখন নিজের প্রয়োজনের গ্যাস রাশিয়ার থেকে কেনা অব্যাহত রেখেছিল, তখন ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করা ছিল দ্বিচারিতা। ভারত সরকার অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে সেই সত্যটা তুলে ধরেছে। ভারতের যুক্তি ছিল পরিষ্কার— দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সস্তায় তেল পাওয়া ভারতের অধিকার।
অর্থনীতির রক্ষাকবচ: রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল কিনে ভারত কেবল বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করেনি, বরং দেশের বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়া থেকে আটকেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি ভারত সেই সময় পশ্চিমা চাপে নতিস্বীকার করত, তবে দেশের মধ্যবিত্তের হেঁশেলে আগুন লাগত। ভারতের এই ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ (Strategic Autonomy) আজ উন্নয়নশীল দেশগুলির কাছে এক অনুপ্রেরণা।
বিশ্বের নতুন শক্তি হিসেবে উত্থান: ভারতের এই দৃঢ় অবস্থান প্রমাণ করে দেয় যে, একমেরু বিশ্বের দিন শেষ। ভারত এখন নিজের শর্তে বিশ্ববাণিজ্য করতে সক্ষম। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের আধিকারিকদের মতে, “আমরা আমাদের বাজারের আকার জানি এবং আমাদের শক্তির উৎস বৈচিত্র্যময় করার অধিকার আমাদের আছে।” ভারত বুঝিয়ে দিয়েছে যে, বন্ধুত্বের খাতিরে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়ার দিন এখন অতীত।