পলাতক জনপ্রতিনিধিদের আত্মসমর্পণ বা পদত্যাগের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর, শিলিগুড়িতে হুঙ্কার শুভেন্দুর

উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং প্রশাসনিক পরিষেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে শিলিগুড়ির ‘উত্তরকন্যা’য় ম্যারাথন প্রশাসনিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিন ঘণ্টাব্যাপী এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিক এবং উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের ‘কলকাতা-নির্ভরতা’ ভাঙার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনিক অচল অবস্থা ও মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি: সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে উত্তরকন্যা গড়ে তোলা হলেও বর্তমান সমীক্ষায় দেখা গেছে, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর ছাড়া অন্য কোনো দফতরের পর্যাপ্ত আধিকারিক বা পরিষেবা সেখানে নেই। এই প্রশাসনিক অচলতা কাটাতে তিনি চিফ সেক্রেটারি, হোম সেক্রেটারি ও ডিভিশনাল কমিশনারদের দায়িত্ব দিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, পঞ্চায়েত ও পুরসভার জনপ্রতিনিধিদের কর্মবিরতি ও গা-ছাড়া মনোভাব। মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তরবঙ্গের প্রায় ৮০ শতাংশ পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ ও পুরসভার জনপ্রতিনিধিরা সরকারি কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকছেন বা গা ঢাকা দিয়ে আছেন। এই পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “সরকারের কোনো শনি-রবিবার নেই, সরকার মানেই ২৪x৭।”
পলাতকদের আত্মসমর্পণ বা পদত্যাগের নির্দেশ: যাঁরা কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়ার ভয়ে বা জনরোষের আশঙ্কায় এলাকাছাড়া হয়ে আছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যাঁরা নিরুদ্দেশ হয়ে আছেন, তাঁরা হয় থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করুন, নয়তো পদত্যাগ করুন।” কর্তব্যে গাফিলতি এবং আধিকারিকদের সঙ্গে অসহযোগিতার অভিযোগে এই ‘পলাতক’ পঞ্চায়েত প্রধান ও জেলা পরিষদ সদস্যদের অবিলম্বে শোকজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
উন্নয়ন প্রকল্প ও বাজেট বৃদ্ধি: মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের বাজেট ১০০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে উত্তরবঙ্গের জন্য একগুচ্ছ নতুন প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, কোনো কাজই কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির স্বার্থে আটকে থাকতে পারে না।