শুধুমাত্র সীমান্ত পাহারা দিলেই দেশ রক্ষা হয় না, দেশকে প্রতিটি ক্ষেত্রে অপরাজেয় করে তুলতে হবে। শনিবার ‘বিকশিত ভারত ইয়ং লিডার্স ডায়ালগ’ অনুষ্ঠানে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে ঠিক এই বার্তাই রাখলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল। তাঁর সাফ কথা, প্রতিরক্ষা থেকে অর্থনীতি— সব ক্ষেত্রে ভারতকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে যেন ইতিহাস আর ফিরে না তাকায়।
“আমরা নিরাপত্তার প্রশ্নে সচেতন ছিলাম না”
এদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৩ হাজার যুবকের মুখোমুখি হয়ে ডোভাল ইতিহাসের এক কঠোর সত্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “একসময় আমাদের সমাজ অত্যন্ত উন্নত ছিল। আমরা কখনও অন্য দেশের মন্দির বা সভ্যতা আক্রমণ করিনি। কিন্তু আমরা নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে উদাসীন ছিলাম। ইতিহাস আমাদের সেই ভুলের শিক্ষা দিয়েছে।” যুবসমাজের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন— আমরা কি সেই শিক্ষা আদেও গ্রহণ করেছি?
প্রধানমন্ত্রী মোদি ও শক্তিশালী নেতৃত্বের গুরুত্ব
অনুষ্ঠানে উপস্থিত তরুণদের ‘ভবিষ্যতের নেতা’ হিসেবে সম্বোধন করে ডোভাল জানান, পরাধীনতার কলঙ্ক মুছে ভারতকে বিশ্বমঞ্চে শ্রেষ্ঠ করতে হলে শক্তিশালী নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদাহরণ টেনে বলেন, দেশ আজ যে উন্নয়নের পথে হাঁটছে তার জন্য প্রয়োজন মোদির মতো দৃঢ়চেতা ও শক্তিশালী নেতৃত্ব।
পূর্বপুরুষদের আত্মত্যাগ ও ‘প্রতিশোধের’ সংজ্ঞা
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে এনএসএ বলেন, “আপনারা ভাগ্যবান যে স্বাধীন ভারতে জন্মেছেন। কিন্তু আমি পরাধীন ভারতের সন্তান। মহাত্মা গান্ধী, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বা ভগত সিংরা যে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, তা ভুলে গেলে চলবে না।”
ডোভালের মতে, ‘প্রতিশোধ’ শব্দটা শুনতে খারাপ লাগলেও এটি একটি বিরাট শক্তির উৎস হতে পারে। তবে এই প্রতিশোধ সংঘাতের নয়, বরং ভারতকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে শ্রেষ্ঠ করে তুলে ইতিহাসের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করার প্রতিশোধ।
সাফল্যের ৩ মূলমন্ত্র
তরুণ প্রজন্মের জন্য জীবনের বড় পাঠ দিয়েছেন অজিত ডোভাল। তাঁর মতে:
-
সিদ্ধান্ত গ্রহণ: সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং তাতে অটল থাকতে হবে।
-
স্বপ্ন বনাম বাস্তবতা: স্বপ্ন শুধু পথ দেখায়, কিন্তু সেই পথ অতিক্রম করতে লাগে কঠোর পরিশ্রম।
-
শৃঙ্খলা: অনুপ্রেরণা ক্ষণস্থায়ী হতে পারে, কিন্তু জীবনে শৃঙ্খলা (Discipline) থাকলে যে কোনও লক্ষ্য জয় করা সম্ভব।
সবশেষে তিনি মনে করিয়ে দেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি নিজের এবং দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন, তবেই ভারত প্রকৃত অর্থে ‘বিকশিত ভারত’ হয়ে উঠবে।