ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল বাংলাদেশের রাজবাড়ির দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। বুধবার বিকেলে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় থাকা ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এই ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ওই বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ৫-৭ জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও, বাকিদের ভাগ্যে কী জুটেছে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকেল সোয়া পাঁচটা নাগাদ দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাসটি পন্টুনে দাঁড়িয়ে পরবর্তী ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল। ঠিক সেই সময় ‘হাসনা হেনা’ নামক একটি ছোট ফেরি পন্টুনে সজোরে ধাক্কা মারে। ফেরির ধাক্কায় বাসটি পন্টুন থেকে ছিটকে সরাসরি পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে বাসটি নদীর প্রায় ৩০ ফুট গভীরে চলে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বাসটি জলে পড়ার পর স্থানীয়রা দড়ি ফেলে যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন।
ইতিমধ্যেই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। ঢাকা থেকেও অতিরিক্ত উদ্ধারকর্মী পাঠানো হয়েছে। তবে পদ্মার প্রবল স্রোত এবং নদীর গভীরতার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভিড় সামলানোর চেষ্টা করছে। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি চালকের অসতর্কতা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে নিখোঁজ যাত্রীদের পরিবারের কান্নায় এখন ভারি দৌলতদিয়ার বাতাস।