পথকুকুর সরাতেই হবে?-মামলায় বিপুল পিটিশন দেখে তাজ্জব সুপ্রিম কোর্ট

পথকুকুরদের নিরাপদ আশ্রয়ে (শেল্টারে) পাঠানোর নির্দেশকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদনের বন্যা বয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে এই বিপুল পরিমাণ পিটিশন দেখে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেন স্বয়ং বিচারপতিরা। তাঁদের পর্যবেক্ষণ, অনেক সময় মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত মামলাতেও এত পরিমাণ আবেদন জমা পড়ে না, যতটা এই পথকুকুর সংক্রান্ত বিষয়ে পড়েছে।

কেন এই বিপুল আবেদন? গত ৭ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট এক অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানিয়েছিল— শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং রেলস্টেশনের মতো জনবহুল এলাকা থেকে পথকুকুরদের সরিয়ে শেল্টারে পাঠাতে হবে। এমনকি ন্যাশনাল ও স্টেট হাইওয়ে থেকে গবাদি পশুদের সরানোর নির্দেশও দেওয়া হয়। পশুপ্রেমী সংগঠন ও একাংশ নাগরিক এই নির্দেশের তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছেন। তাঁদের দাবি, নির্বীজকরণের পর কুকুরদের পুরনো জায়গায় না ফেরানো হলে বাস্তুতন্ত্রে সমস্যা হতে পারে। এই প্রতিবাদের জেরেই শীর্ষ আদালতে জমা পড়েছে একের পর এক পিটিশন।

স্পেশাল বেঞ্চ গঠন মামলাটির গুরুত্ব বিচার করে এবং ক্রমবর্ধমান জলাতঙ্ক ও শিশু কামড়ানোর ঘটনা মাথায় রেখে সুপ্রিম কোর্ট একটি বিশেষ বেঞ্চ (Special Bench) গঠন করেছে। বুধবার বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার এই স্পেশাল বেঞ্চে সব ক’টি পিটিশনের শুনানি একযোগে হবে।

প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় শিশুদের মধ্যে কুকুরের কামড় থেকে জলাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে গত ২৮ জুলাই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা শুরু করেছিল শীর্ষ আদালত। আদালতের মূল লক্ষ্য হলো জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যেখানে পথকুকুরদের শুধু ভ্যাকসিন নয়, জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে রাখা প্রয়োজন বলে প্রাথমিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এখন দেখার, বুধবারের শুনানিতে পশুপ্রেমীদের আবেগ বনাম সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা— কোন দিকটি প্রাধান্য পায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy