পতঞ্জলির ঘি-এর (Patanjali Ghee) গুণমান নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বিতর্ক। সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের একটি আদালত রামদেবের সংস্থার তৈরি ঘি-এর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে মোটা অঙ্কের জরিমানা আরোপ করেছে। এই রায়ের পরই নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষায় সরব হয়েছে পতঞ্জলি। সোমবার এক বিবৃতি জারি করে সংস্থাটি আদালতের নির্দেশকে ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছে এবং সেই রায়ের বিরুদ্ধে জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা ট্রাইবুনালে (National Food Safety Tribunal) দ্বারস্থ হয়েছে।
ল্যাব রিপোর্ট নিয়ে আপত্তি পতঞ্জলির
পতঞ্জলি তাদের বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, যে ল্যাবে ঘি-এর পরীক্ষা হয়েছে, সেটি NABL-অনুমোদিত নয় এবং আইনত গ্রহণযোগ্যও নয়। সংস্থার যুক্তি, “যেহেতু ল্যাবটির আইনত কোনো ভিত্তি নেই, সেহেতু সেই নিম্নমানের ল্যাবের তরফে জারি করা রিপোর্ট যথেষ্ট আপত্তিকর। একটি নিম্নমানের ল্যাব কীভাবে পতঞ্জলির সেরা ঘি-এর মান পরীক্ষা করছে?” এই রিপোর্টকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে পতঞ্জলি তাদের ঘি-এর পুনরায় ল্যাব টেস্ট করানোর দাবি জানিয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, যে ঘি-এর প্যাকেটটি পরীক্ষা করা হয়েছিল, সেটি ছিল মেয়াদ উত্তীর্ণ (Expired)। মেয়াদ উত্তীর্ণ ঘি পরীক্ষার ভিত্তিতে উত্তরাখণ্ডের আদালত যে রায় দিয়েছে, তা আইনত অযৌক্তিক।
বিতর্কটি তৈরি হয়েছে ঘি-এর আরএম (RM) গুণমান নিয়ে, যা একটি খাদ্যদ্রব্যে ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণকে চিহ্নিত করে। আদালত অবশ্য পতঞ্জলির ঘি খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর, এমন কোনো মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, এই পতঞ্জলি ঘি-এর জনপ্রিয়তা বিশাল। এটি সংস্থার ওয়েবসাইটে এবং বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে ‘বেস্ট সেলিং’ পণ্যের তালিকায় রয়েছে। বর্তমানে এই ঘি-এর ৫ লিটারের দাম প্রায় ৩ হাজার ৮৪৩ টাকা এবং ১ লিটারের দাম প্রায় ৭০০ টাকা।