আজ থেকে শুরু হয়েছে CBSE-র বোর্ড পরীক্ষা। সারা দেশের কয়েক লক্ষ পরীক্ষার্থী যখন স্নায়ুর চাপ সামলে পরীক্ষার হলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তেই দক্ষিণ কলকাতার হরিদেবপুরে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ঘটনা। নিজের পড়ার ঘর থেকেই উদ্ধার হলো এক দশম শ্রেণির ছাত্রের ঝুলন্ত দেহ। পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগে ছাত্রের এই চরম সিদ্ধান্তে শোকস্তব্ধ পরিবার থেকে শুরু করে গোটা এলাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম শৌনক ব্যানার্জি (নাম পরিবর্তিত)। আজ তার প্রথম পরীক্ষা ছিল। পরিবারের দাবি, বুধবার রাতেও সে স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করছিল। কোনো অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করা যায়নি। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে অনেক বেলা হলেও দরজা না খোলায় সন্দেহ হয় বাবা-মায়ের। ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে শেষমেশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায়, ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছে ওই কিশোর। দ্রুত তাকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পরীক্ষার প্রবল মানসিক চাপ বা ‘পারফরম্যান্স অ্যাংজাইটি’ থেকেই হয়তো এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছে ছাত্রটি। তবে কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই ছাত্রের গতিবিধি বা ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে হরিদেবপুর থানার পুলিশ। বর্তমানে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শিক্ষা মহলের মতে, শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পরীক্ষার অহেতুক চাপ কমাতে না পারলে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা বারবার ফিরে আসবে।