পঞ্চাশের বেশি নয়, বাকি আর মোটে পাঁচ মাস! পঞ্জাব ভোটের আগে আপ-এ বিরাট রদবদল!

আর পাঁচ মাসও বাকি নেই ২০২৭-এর পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের। আর এই মেগা ভোটের কথা মাথায় রেখেই শাসক দল আম আদমি পার্টি (আপ) তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী নীতিনির্ধারক সংস্থা পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স কমিটি বা প্যাক (PAC)-এ এক বিরাট ও ঐতিহাসিক রদবদল ঘটাল। ১০ সদস্যের এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে এবার যুক্ত করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মান, রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমা এবং দিল্লির প্রাক্তন মন্ত্রী তথা পঞ্জাবের সহ-ইনচার্জ সত্যেন্দ্র জৈন-কে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই রদবদল পঞ্জাব নির্বাচনে দলের রণকৌশলকে আরও শানিত করবে।

পূর্বে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সুবাদে ভগবন্ত মান এই কমিটিতে কেবল একজন বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিবর্তনের পর তাঁকে এবার একেবারে স্থায়ী সদস্যের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগগুলো স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিচ্ছে যে আপ আসন্ন পঞ্জাব নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। দল কোনোভাবেই ধরে নিচ্ছে না যে ২০২২ সালের বিপুল জনরায় তাদের আপনাআপনি দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনবে। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ এবং বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে আপ হাইকম্যান্ড এখন থেকেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে।

পাশাপাশি, ২৩ সদস্যের একটি নতুন জাতীয় কার্যনির্বাহীরও গঠন করা হয়েছে। এই নতুন তালিকায় জায়গা পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের ওএসডি রাজবীর সিং ঘুমান এবং অরবিন্দ কেজরীবালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী বিভব কুমার। উল্লেখ্য, ওএসডি রাজবীর সিং ঘুমানের নাম সম্প্রতি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির ‘ক্যাশ-ফর-ট্রান্সফার এবং জমি জালিয়াতি’ সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে প্রকাশ্যে এসেছিল, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট শোরগোল পড়েছিল।

তবে এই রদবদলে বেশ কিছু হেভিওয়েট নেতার নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আম আদমি পার্টির পঞ্জাব সভাপতি অমন অরোরা, জাগরাওঁয়ের বিধায়ক সরবজিৎ কৌর মনুকে এবং তলবন্ডি সাবোর বিধায়ক বলজিন্দর কৌরকে এবার জাতীয় কার্যনির্বাহী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আপ-এর নবগঠিত জাতীয় কার্যনির্বাহীর সদস্যদের তালিকায় রয়েছেন অরবিন্দ কেজরীবাল, অতিশী, আদিল আহমেদ খান, অনুরাগ ঢাকান্ডা, ভগবন্ত মান, দিলীপ পান্ডে, দুর্গেশ পাঠক, গোপাল ইতালিয়া, গোপাল রাই, হরপাল সিং চিমা, মনীশ সিসৌদিয়া, মহম্মদ এরশাদ, এন.ডি. গুপ্তা, পঙ্কজ গুপ্তা, প্রীতি শর্মা মেনন, পৃথিবী রেড্ডি, রাখী বিড়লা, বিভব কুমার, সঞ্জয় সিং, সত্যেন্দ্র জৈন, শৈলী ওবেরয় এবং রাজবীর সিং ঘুমান।

প্যাক (PAC)-এ পাকাপাকি জায়গা পাওয়ার পর এখন থেকে পঞ্জাবে দলের নির্বাচনী রণকৌশল চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের ভূমিকা আরও পোক্ত ও আনুষ্ঠানিক হবে। একই সঙ্গে দলের জাতীয় নেতৃত্ব এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়ের পরিধিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আসন্ন নির্বাচনে আপ সরকার কর্মসংস্থানহীনতা, মাদক সমস্যা, অর্থনৈতিক সংকট এবং সুশাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধীদের সমালোচনার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের শাসনকালের প্রধান উন্নয়নমূলক সাফল্যগুলোও ভোটারদের সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরবে। এছাড়া এই কমিটিতে পাঁচজন বিশেষ আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে অজয় দত্ত, চৈতর ভাসাওয়া, ইমরান হুসেন, মেহরাজ মালিক এবং ভেনজি ভিনাসকে।