কর্নাটকের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন ডি.কে. শিবকুমার। কংগ্রেস বিধায়ক দলের (CLP) নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর, আগামী ৩ জুন এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে রাজ্যের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি। প্রবীণ নেতা সিদ্দারামাইয়ার সঙ্গে আলোচনার পর হাইকম্যান্ডের সম্মতিতে এই জটিল রাজনৈতিক সমীকরণের সমাধান হয়েছে। কিন্তু এই ক্ষমতার পালাবদলের মাঝেই কর্নাটকের রায়চুর জেলার পঞ্চমুখী অঞ্জনেয় মন্দিরকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়েছে এক অবিশ্বাস্য আলোচনার তরঙ্গ।
মন্দিরের প্রধান পুরোহিত শমাচার্যের দাবি, তিনি আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, পঞ্চমুখী অঞ্জনেয়ের আশীর্বাদেই ডি.কে. শিবকুমার মুখ্যমন্ত্রী হবেন। পুরোহিতের এই দাবি প্রকাশ্যে আসতেই মন্দির চত্বরে খুশির হাওয়া বইছে। টিভি৯-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শমাচার্য জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবরে উপ-মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ডি.কে. শিবকুমার তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে এই মন্দিরে এসেছিলেন। সেই সময় তিনি দেবতার উদ্দেশ্যে বিশেষ ‘মধু অভিষেক’ সম্পন্ন করেন এবং মনোবাঞ্ছা পূরণের আশায় ৪২টি শ্লোক পাঠ করেন। পুরোহিতের কথায়, “পঞ্চমুখী প্রাণদেবের চরণে মধু অভিষেক করলে সমস্ত বিঘ্ন দূর হয় এবং অভীষ্ট সিদ্ধি ঘটে। আমরা তখনই নিশ্চিত ছিলাম যে এই পূজার পর ডি.কে. শিবকুমার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন। আজ সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়েছে।”
এই মন্দিরের অলৌকিক মাহাত্ম্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রচলিত রয়েছে গভীর বিশ্বাস। রায়চুরের প্রাচীন গণধাল গ্রামে অবস্থিত এই পঞ্চমুখী অঞ্জনেয় মন্দিরে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আনাগোনা নতুন নয়। জানা গেছে, ডি.কে. শিবকুমারের আগে কর্নাটকের চারজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী—গুন্ডু রাও, বঙ্গারাপ্পা, বীরপ্পা মইলি এবং বি.এস. ইয়েদিউরাপ্পা—ক্ষমতায় বসার আগে এই মন্দিরে এসে বিশেষ পূজা করেছিলেন। পঞ্চমুখী হনুমানের আশীর্বাদে ডি.কে. শিবকুমার এখন রাজ্যের পঞ্চম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সেই তালিকায় নাম লেখালেন।
মন্দিরটির পৌরাণিক প্রেক্ষাপটও বেশ রোমাঞ্চকর। বিশ্বাস করা হয়, এখানকার পঞ্চমুখী মূর্তিটি প্রাকৃতিক এবং পাথরে খোদাই করা। এই মূর্তিতে ভগবান হনুমানের পাঁচটি রূপ—নরসিংহ, গরুড়, বরাহ, হয়গ্রীব এবং স্বয়ং হনুমান—রয়েছে। কথিত আছে, ত্রেতা যুগে ভগবান রাম ও লক্ষ্মণকে রক্ষা করতেই হনুমান এই রূপ ধারণ করেছিলেন। এছাড়া, সন্ত শ্রী রাঘবেন্দ্র স্বামী এখানে ১২ বছর ধরে কঠোর তপস্যা করেছিলেন, যেখানে সন্তুষ্ট হয়ে স্বয়ং হনুমান তাঁকে এই পঞ্চমুখী রূপে দর্শন দিয়েছিলেন।
ডি.কে. শিবকুমারের এই বিশাল সাফল্য যেন রাজনীতির অলিগলিতে আধ্যাত্মিকতার যোগসূত্রকে আবারও স্পষ্ট করে দিল। বিরোধীদের সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি, দেব-আশীর্বাদের এই আখ্যান এখন রাজ্যের মানুষের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে। ৩ জুনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের দিকে এখন তাকিয়ে গোটা কর্নাটক, যেখানে রাজনীতির ময়দানের উত্তাপ ছাপিয়ে উঠে এসেছে পঞ্চমুখী অঞ্জনেয়ের প্রতি এই গভীর ভক্তি।





