ভারতের জাতীয় সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে আগামী ১০ এপ্রিল থেকে এক বড়সড় আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রকের (MoRTH) সাম্প্রতিক গেজেট নোটিফিকেশন অনুযায়ী, আগামী ১০ এপ্রিল থেকে দেশের কোনও টোল প্লাজায় আর নগদ টাকায় (Cash) টোল দেওয়া যাবে না। যানজট কমাতে এবং টোল আদায়ের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করতে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
FASTag না থাকলে কত জরিমানা?
এখনও পর্যন্ত টোল প্লাজায় নির্দিষ্ট লেন দিয়ে নগদ টাকায় টোল দেওয়ার সুযোগ থাকলেও, ১০ এপ্রিল থেকে তা ইতিহাস হতে চলেছে। তবে যাঁদের গাড়িতে এখনও FASTag নেই বা যাঁদের ট্যাগ কাজ করছে না, তাঁদের জন্য বিকল্প থাকছে, কিন্তু তা বেশ ব্যয়বহুল।
UPI পেমেন্টে বাড়তি মাশুল: যদি কোনও চালক FASTag ছাড়া ইউপিআই (UPI) দিয়ে পেমেন্ট করতে চান, তবে তাঁকে সাধারণ টোল মূল্যের ১.২৫ গুণ বেশি টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ ১০০ টাকার টোল হলে আপনাকে মেটাতে হবে ১২৫ টাকা।
নগদ লেনদেন নিষিদ্ধ: টোল প্লাজার কোনও বুথেই সরাসরি নগদ টাকা গ্রহণ করা হবে না। ডিজিটাল ট্রানজ্যাকশন বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে টোল গেটগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন কমানোই সরকারের মূল লক্ষ্য।
কেন এই কড়া সিদ্ধান্ত?
ভারতের জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষের (NHAI) মতে, ইতিমধ্যেই দেশে ৯৮ শতাংশের বেশি গাড়িতে FASTag লাগানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও টোল প্লাজায় নগদ লেনদেনের কারণে ট্রাফিক জ্যাম ও জ্বালানির অপচয় হচ্ছে। ১. সময় সাশ্রয়: ডিজিটাল পেমেন্টের ফলে প্রতিটি গাড়ির টোল দিতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগবে। ২. জ্বালানি সাশ্রয়: লাইনে দাঁড়িয়ে ইঞ্জিন চালু রাখার প্রয়োজন পড়বে না, ফলে পরিবেশ দূষণ ও তেল—উভয়ই বাঁচবে। ৩. স্বচ্ছতা: টোল আদায়ের ক্ষেত্রে মানুষের হস্তক্ষেপ কমলে দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না।
যাত্রীদের জন্য পরামর্শ
১০ এপ্রিলের ডেডলাইন পার হওয়ার আগেই আপনার গাড়ির FASTag অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স আছে কি না তা যাচাই করে নিন। যদি ট্যাগ না থাকে, তবে অবিলম্বে তা সংগ্রহ করুন। নয়তো প্রতিবার হাইওয়েতে যাতায়াতের সময় বাড়তি টাকা গুনে আপনার পকেট ফাঁকা হতে পারে।
ডিজিটাল ইন্ডিয়ার পথে এই পদক্ষেপ কি সাধারণ মানুষের যাত্রা আরও সহজ করবে? না কি গ্রামগঞ্জের চালকরা এর ফলে নতুন সমস্যায় পড়বেন? নজর থাকবে পরবর্তী আপডেটে।
দেশ ও দশের সব খবর সবার আগে পেতে ফলো করুন ডেইলিয়ান্ট।





