পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবার সরাসরি প্রভাব ফেলতে চলেছে সাধারণ মানুষের পকেটে। এমনিতেই যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার মাঝেই ঘরোয়া বিমান পরিষেবা নিয়ে এক কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী সোমবার (১ এপ্রিল) থেকেই বিমানের টিকিটের ভাড়ার ওপর আর কোনও ‘ক্যাপিং’ বা সর্বোচ্চ মূল্যসীমা থাকছে না। অর্থাৎ, এখন থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিমানের টিকিটের দাম নির্ধারণ করতে পারবে ইন্ডিগো বা এয়ার ইন্ডিয়ার মতো বিমান সংস্থাগুলি।
দীর্ঘদিন ধরেই ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এবং স্পাইসজেটের মতো প্রথম সারির বিমান সংস্থাগুলি সরকারের কাছে এই মূল্যসীমা তুলে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে আসছিল। তাদের যুক্তি ছিল, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় নির্দিষ্ট ভাড়ার কাঠামোয় ব্যবসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ‘ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইনস’-এর পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছিল যে, ভাড়ার সীমাবদ্ধতা বজায় থাকলে সংস্থাগুলি বড়সড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর দাম বাড়তে থাকায় সংস্থাগুলি কোণঠাসা হয়ে পড়ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই সবুজ সংকেতের ফলে উৎসবের মরসুমে বা জরুরি প্রয়োজনে শেষ মুহূর্তে টিকিট কাটলে যাত্রীদের কয়েক গুণ বেশি টাকা গুনতে হতে পারে। আগে সরকার সর্বোচ্চ একটি দাম বেঁধে দিত, যার বেশি ভাড়া নেওয়া যেত না। সোমবার থেকে সেই রক্ষাকবচ সরে যাওয়ায় আকাশপথে যাতায়াত মধ্যবিত্তের জন্য আরও মহার্ঘ্য হয়ে উঠতে চলেছে। যুদ্ধের মেঘ এবং কেন্দ্রের এই নয়া নিয়ম— দুইয়ে মিলে এবার সাধারণ যাত্রীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ।