পকেটে কোপ! বিমানের ভাড়ায় আর থাকছে না লাগাম, মধ্যবিত্তের আকাশছোঁয়া চিন্তার কারণ কী?

আকাশপথে যাতায়াত কি এবার সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে চলেছে? কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তে এমন আশঙ্কাই প্রবল হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিমান ভাড়ার ওপর যে ঊর্ধ্বসীমা বা ‘প্রাইস ক্যাপিং’ বজায় ছিল, তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক। এর ফলে এখন থেকে বিমান সংস্থাগুলো তাদের ইচ্ছেমতো টিকিটের দাম নির্ধারণ করতে পারবে। বিশ্বজুড়ে চলা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং জ্বালানির অগ্নিমূল্যের মাঝে সরকারের এই পদক্ষেপ যাত্রীদের পকেটে বড়সড় টান ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

করোনা আবহে যখন বিমান পরিষেবা ধুঁকছিল, তখন সাধারণ যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় ভাড়ার একটি নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দিয়েছিল সরকার। কিন্তু বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া। এয়ার টারবাইন ফুয়েল (ATF) বা বিমানের জ্বালানির দাম বাড়ায় লোকসানের মুখ দেখছিল সংস্থাগুলো। ক্যাপিং উঠে যাওয়ায় এখন সংস্থাগুলো সেই বর্ধিত খরচ সরাসরি যাত্রীদের ঘাড়েই চাপাবে। বিশেষ করে উৎসবের মরসুম বা জরুরি প্রয়োজনে শেষ মুহূর্তে টিকিট কাটলে আকাশছোঁয়া দাম দিতে হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন-রাশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত। এর ফলে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ খরচও বেড়েছে। সরকার মনে করছে, মুক্ত বাজারের ওপর ভাড়ার দায়িত্ব ছেড়ে দিলে সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিমান শিল্পকে স্থিতিশীল করবে। তবে তাত্ক্ষণিকভাবে সাধারণ পর্যটক এবং ব্যবসায়িক যাত্রীদের জন্য এটি বড় দুঃসংবাদ। বিশেষ করে যারা সস্তায় টিকিট কেটে যাতায়াত করতে অভ্যস্ত ছিলেন, তাঁদের জন্য বিমান ভ্রমণ এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়াবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy