যিনি একসময় ঠিক করতেন কার ভোট দেওয়ার অধিকার আছে আর কার নেই, আজ তিনিই নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার হারিয়ে বিচার চাইছেন। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রাক্তন সচিব তথা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মনোনীত প্রাক্তন ‘ইলেকশন অবজারভার’ ওসমান গনির নাম বাদ পড়ল ২০২৬-এর সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে। বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা ওসমান গনি জানতে পেরেছেন, ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি’ বা যুক্তিসঙ্গত অসঙ্গতির অজুহাতে তাঁর নাম দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।
অমান্য ন্যাচারাল জাস্টিস:
প্রাক্তন এই উচ্চপদস্থ আমলার অভিযোগ, নাম বাদ দেওয়ার আগে তাঁকে কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি বা কোনও শুনানিতেও ডাকা হয়নি। অথচ তাঁর স্ত্রী ও কন্যার নাম তালিকায় বহাল রয়েছে। পার্ক সার্কাসের বাসিন্দা ওসমান গনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “জন্মসূত্রে আমি ভারতীয় নাগরিক। ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনে রাজস্থানে আমি অবজারভার ছিলাম। আজ আমার সঙ্গেই এমন বেআইনি আচরণ করা হচ্ছে? ন্যাচারাল জাস্টিস বলে কি কিছু নেই?”
ট্রাইব্যুনালের পথে প্রাক্তন আমলা:
বিএলও (BLO) বা ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসারের কাছ থেকে কোনও সদুত্তর না পেয়ে এবার আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। পেনশন পেমেন্ট অর্ডার (PPO), পাসপোর্ট ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারের মতো নথিপত্র নিয়ে তিনি অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করবেন। তবে রাজ্যের কয়েক লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার হিড়িকের মধ্যে খোদ প্রাক্তন নির্বাচন সচিবের নাম বাদ পড়া প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।





