নৈহাটিতে ভাড়াবাড়িতে বসে কোটি টাকার খেলা! পুলিশের হানা দিতেই বেরিয়ে এল ভয়ঙ্কর তথ্য!

উত্তর ২৪ পরগনার অত্যন্ত ব্যস্ত রেল স্টেশন নৈহাটি। যে স্টেশনে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের আনাগোনা, যেখানে অফিস যাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ব্যস্ততা তুঙ্গে, সেই জনবহুল এলাকার নাকের ডগা দিয়েই চলছিল এক বিশাল আর্থিক প্রতারণা চক্র। নৈহাটি পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের কারিগরপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ডেরা বেঁধেছিল তিন অপরাধী। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। নৈহাটি থানার পুলিশের তৎপরতায় পর্দা ফাঁস হল এই ভয়ঙ্কর জালিয়াত চক্রের।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত তিনজনের নাম শেখ জাভেদ আলি (৩৮), আসিফ আলি (৩০) এবং নেসার হুসেন (১৮)। এই চক্রটি হালিশহরের মারওয়ারি কল চৌমাথা এলাকার এক ব্যক্তির বাড়ি ভাড়া নিয়ে তাদের ‘অপারেশন’ চালাত। লোকচক্ষুর আড়ালে ভাড়াবাড়িতে বসেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে জালিয়াতি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটত এরা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নৈহাটি থানার পুলিশ অতর্কিতে হানা দেয় ওই কারিগরপাড়ার ডেরায়। সেখান থেকেই হাতেনাতে ধরা পড়ে এই তিনজন। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে দুটি অত্যাধুনিক ল্যাপটপ, ৬টি দামি মোবাইল ফোন এবং কয়েক লক্ষ নগদ টাকা।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, অভিযুক্তরা অনলাইন ট্রানজ্যাকশন বা ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে আসছিল। পুলিশ ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এর ৩১৮(২), ৩১৮(৪), ৩১৯(২), ৩১৬(২) এবং ৬১(২) ধারায় মামলা রুজু করেছে। আজই তাদের ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হচ্ছে। স্থানীয় কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম এই ঘটনায় স্তম্ভিত। তিনি জানান, বাড়ির মালিক এলাকার বাসিন্দা না হওয়ায় ভাড়াটেদের গতিবিধি নিয়ে কারোর কোনো ধারণা ছিল না। তিনি অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনার পেছনে আরও বড় কোনো আন্তর্জাতিক চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।