নেহেরুর সেই ‘ঐতিহাসিক’ রোলস রয়েস গাড়ি কেড়ে নিল দাম্পত্য! সুপ্রিম কোর্টে ডিভোর্স: কিন্তু কেন?

একমাত্র রোলস রয়েস, যা ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর অনুরোধে তৈরি হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক গাড়িই এসে দাঁড়াল এক দম্পতির ডিভোর্সের কারণ হিসেবে। প্রায় আট বছর ধরে চলা এই আইনি লড়াই শেষে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার নিষ্পত্তি করেছে। ঐতিহাসিক এই গাড়িকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দাম্পত্য কলহ শেষ হলো বিবাহ বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে।

সময়টা ১৯৫১ সাল। দেশ সবে স্বাধীন হয়েছে। জওহরলাল নেহেরু তখন প্রধানমন্ত্রী। ভদোদরার মহারানি চিমনাবাই সাহিব গায়কোয়াড়কে উপহার দেওয়ার জন্য তিনি বিশেষ অনুরোধে ব্রিটেন থেকে আনিয়েছিলেন এই রোলস রয়েসটি। মহারানিকে উপহার তুলে দিয়েছিলেন স্বয়ং নেহেরু। সেই গাড়ি উত্তরাধিকার সূত্রে হাতবদল হতে হতে চলে আসে গোয়ালিয়রের এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী পরিবারের কাছে।

২০১৪ সালে সেই ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ের বিয়েতে যৌতুক হিসেবে এই অ্যান্টিক গাড়িটি দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, বিয়ে হয়ে গেলেও জামাইকে গাড়িটি দেওয়া হয়নি। এর ফলে প্রথমে নিম্ন আদালতে মামলা করেন জামাই। সেই মামলাই মধ্যপ্রদেশের হাইকোর্ট ঘুরে পৌঁছায় সুপ্রিম কোর্টে।

মামলায় স্ত্রী অভিযোগ করেন যে, রোলস রয়েস গাড়ি এবং মুম্বইয়ে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিকানা চেয়ে তাঁর স্বামী বিয়ের পর থেকেই তাঁর উপর অত্যাচার করতেন। এই কারণে তিনি বিবাহ বিচ্ছেদ চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে, স্বামী পাল্টা দাবি করেন, বিয়ের আগে রোলস রয়েস দেওয়ার কথা বলেও তা দেওয়া হয়নি এবং দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

বিবাদ মেটাতে সুপ্রিম কোর্ট প্রথমে একজন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করেছিল, কিন্তু তাতেও কোনো ফল হয়নি। অবশেষে আদালত বিবাহ বিচ্ছেদের পক্ষে রায় দেয়। রায়ে বলা হয়, স্বামী স্ত্রীকে তাঁর বিয়ের সমস্ত গয়না এবং উপহার ফিরিয়ে দেবেন। এর সঙ্গে ক্ষতিপূরণ বাবদ ২ কোটি ২৫ লক্ষ টাকাও দিতে হবে স্বামীকে। আর যে গাড়ি নিয়ে এত কাণ্ড, সেই রোলস রয়েস থাকবে স্ত্রীর পরিবারের কাছেই। বর্তমানে সেই গাড়িটির আনুমানিক মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকার বেশি।