‘নীতীশজি অচেতন নন, সম্পূর্ণ সজাগ’ তেজস্বী যাদবের কটাক্ষে উত্তাল বিহার, কী ভাবছে তাঁর নিজের গ্রাম?

নমস্কার! আমি একজন পেশাদার সংবাদ সম্পাদক হিসেবে আপনার অনুরোধটি বুঝতে পেরেছি। ডেইলি হান্ট-এর জন্য ভাইরাল করার উদ্দেশ্যে, পেশাদার সাংবাদিকতার মান বজায় রেখে, এবং আপনার নির্দেশিকা অনুসরণ করে সংবাদটি বাংলায় পুনর্লিখন করছি।

🔥 ডেইলি হান্ট-এর জন্য নজরকাড়া, ক্লিকযোগ্য ও কৌতূহল জাগানিয়া শিরোনাম: 🔥
১. ‘অচেতন নন, একদম সচেতন!’ নালন্দায় নীতীশ কুমারের গ্রামে তেজস্বীর মন্তব্যের পাল্টা জবাব! কে সত্যি? ২. ‘রাবড়ি দেবী শৌচালয় আর সচিবালয় চিনতেন না’: নীতীশকে ‘বৃদ্ধ’ বলায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী! আর কী বললেন? ৩. ‘নীতীশকে হার নয়, চাই সম্মানজনক বিদায়’: গঙ্গায় আরজেডি সমর্থক, পাটনার যুবক থেকে গ্রামবাসী— বিহারের জনতার আসল রায় কী?

নীতীশ কুমার কি ‘অচেতন’? গ্রামের মানুষ যা বললেন, তাতে তুমুল অস্বস্তিতে তেজস্বী!
বিহার: মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদবের ‘অচেতন’ (অসচেতন) বলে কটাক্ষ করাটা এখন বিহারের রাজনীতিতে অন্যতম আলোচ্য বিষয়। কিন্তু নালন্দার কল্যাণ বিঘায়, নীতীশ কুমারের নিজের পৈতৃক ভিটেয় গেলে শোনা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর। সেখানে গ্রামবাসীরা এক বাক্যে বলছেন— “মুখ্যমন্ত্রী জি অচেতন নন, বিলকুল সচেত আছেন।” অর্থাৎ, মুখ্যমন্ত্রী অসচেতন নন, তিনি সম্পূর্ণভাবে সতর্ক ও সচেতন।

স্বভাবতই, নীতীশ কুমারের নিজের গ্রামে এমন প্রতিক্রিয়া আশা করা যায়। কারণ, এই গ্রাম থেকেই উঠে আসা এক সাধারণ ঘরের ছেলে দুই দশক আগে লালু প্রসাদ যাদবকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে বিহারের রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেন।

‘জঙ্গল রাজ’ শেষ করা মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ? ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা
কল্যাণ বিঘার এক দল গ্রামবাসীর কথায় তীব্র ক্ষোভ ঝরে পড়ল লালু-তেজস্বী পরিবারের বিরুদ্ধে। তাঁদের স্পষ্ট মন্তব্য, “যখন রাবড়ি দেবীকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছিল, তখন তিনি ‘শৌচালয় আর সচিবালয়’-এর মধ্যে পার্থক্য করতে পারতেন না। তিনি নিরক্ষর ছিলেন, তবুও তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছিল। এখন সেই একই পরিবারের সদস্যরা সাহস দেখাচ্ছে এমন একজন মুখ্যমন্ত্রীর দিকে কাদা ছুঁড়তে, যিনি রাজ্যের ভোল বদলে দিয়েছেন এবং ‘জঙ্গল রাজ’ শেষ করেছেন।”

নালন্দার অন্যান্য গ্রামে ঘুরলেও নীতীশ কুমারের প্রতি মানুষের অগাধ আস্থা দেখা যায়। অনেকেই তাঁকে “জ্ঞানী নেতা” বলে অভিহিত করছেন, যাঁর প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা এই রাজ্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

‘বয়স হয়েছে বলে সরিয়ে দেব?’ তেজস্বীর কটাক্ষে অসন্তুষ্ট প্রবীণরা
অনেকে তেজস্বীর বয়সের খোঁচারও সমালোচনা করেছেন। ৭০ বছর বয়সী ওম রাম একটি রাস্তার মোড়ে বসে খবরের কাগজ পড়তে পড়তে বলেন, “কেবল বয়স বেড়েছে বলেই কি আমরা কাউকে সরিয়ে দেব? বিহারে প্রবীণদের উপহাস করাটা ভালো চোখে দেখা হয় না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ২০০৫ সাল থেকে তাঁর চোখের সামনে কীভাবে রাজ্য বদলে গেছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

নীতীশকে নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত জনতা
গঙ্গায় নৌকাযাত্রার সময় আরজেডি-র একদল সমর্থক অবশ্য বলছেন, জনসমক্ষে নীতীশের সাম্প্রতিক কিছু আচরণ দেখে মনে হয়, তাঁর মানসিক তীক্ষ্ণতা আগের থেকে আলাদা এবং তাঁর সম্মানের সঙ্গে অবসর নেওয়া উচিত।

তবে, পাটনার মেরিন ড্রাইভে এক যুবক আবার দাবি করেন, পাটনার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে নীতীশের জন্যই। তাঁর কথায়, “এই রাজ্যের আজীবন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নীতীশ কুমারকেই থাকা উচিত।” অন্যদিকে, এক নীতীশ-সমর্থক বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী আমলাদের উপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন, যা ঠিক নয়। তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রীকে অবশ্যই আমলাতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, নয়তো তিনি রাজ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আরও একটি মেয়াদ পাওয়ার যোগ্য।

মহিলাদের চোখে ‘অভিভাবক নীতীশ’
তবে, নীতীশ কুমারের সবচেয়ে বড় সমর্থক এবং ভোটব্যাঙ্ক আজও মহিলারা। প্রথমে মদ নিষিদ্ধ করা এবং পরে ১.২৫ কোটিরও বেশি মহিলাকে $১০,০০০ (১০ হাজার) টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়ায় মহিলাদের মধ্যে নীতীশের জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। কল্যাণ বিঘা এবং সংলগ্ন গ্রামের মহিলারা মনে করেন, নীতীশ কুমার তাঁদের ক্ষমতায়িত করেছেন এবং নিরাপদ রেখেছেন। তাঁদের কাছে নীতীশ যেন এক অভিভাবক এবং পিতৃপ্রতিম, যিনি আরও একবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য। কল্যাণ বিঘার ভোটারদের স্পষ্ট বক্তব্য: নীতীশ কুমারের পরাজয় নয়, বরং একদিন ক্ষমতা থেকে সম্মানজনক বিদায় পাওয়া উচিত।

এই জনমত কি আসন্ন নির্বাচনে নীতীশ কুমারের ভাগ্যে কোনো বড় পরিবর্তন আনবে? আপনার কী মনে হয়?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy