নিহত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে অভিষেক! পরিবারকে চাকরির আশ্বাস, ‘অন্য কথা’ শোনালেন তৃণমূল সাংসদ!

পুনেতে কর্মরত অবস্থায় মৃত পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতোর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে শুক্রবার তাঁর গ্রামে পৌঁছে গেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শোকাতুর পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে তাঁদের সবরকম আইনি ও আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দেন তিনি। তবে সুখেনের গ্রামে দাঁড়িয়েই পরিযায়ী শ্রমিক হওয়া প্রসঙ্গে এক নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ তত্ত্ব খাড়া করলেন অভিষেক।

পরিবারের দাবি বনাম অভিষেকের যুক্তি: মৃত সুখেনের মায়ের অভিযোগ, পেটের দায়ে এবং এলাকায় কাজের অভাবেই তাঁর তিন ছেলেকে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হয়েছিল। কিন্তু এদিন সেই প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পরিসংখ্যান টেনে বলেন:

“বিগত এক দশকে দেশ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে গিয়েছেন। তাই পেটের দায়ে বা কাজের অভাবেই সকলে পরিযায়ী শ্রমিক হয় না, অনেক সময় উন্নত সুযোগের জন্যও মানুষ বাইরে যায়।”

অভিষেকের এই মন্তব্য আসলে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মসংস্থান নীতির ব্যর্থতাকে আড়াল করার নাকি অন্য কোনো বার্তা, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি: সুখেনকে হারানো মাহাতো পরিবারের আর্তনাদ শুনে অভিষেক তাঁদের বড়সড় স্বস্তি দিয়েছেন। সুখেনের বাকি দুই ভাইকেও যাতে আর ভিনরাজ্যে যেতে না হয়, সেই লক্ষ্যে তাঁদের এ রাজ্যেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও সুখেনের মৃত্যুর ঘটনায় উপযুক্ত বিচার পেতে আইনি লড়াইয়ে দলের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার কথা জানান তিনি।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: রাজ্যে কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে যখন বিরোধীরা বারবার সুর চড়াচ্ছে, তখন অভিষেকের এই সফর এবং “সবাই পেটের দায়ে পরিযায়ী হয় না” মন্তব্যটি ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে নিহতের পরিবারকে কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়ে মানবিক মুখ তুলে ধরতেও পিছপা হননি তৃণমূলের এই সেকেন্ড-ইন-কমান্ড।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy