নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘এআই কেলেঙ্কারি’র অভিযোগ মমতার! ৫৮ লক্ষের তালিকায় বৈধ ভোটার কত?

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তুঙ্গে রাজ্য-কমিশন সংঘাত। এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘এআই’ (Artificial Intelligence) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ আনলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, খসড়া তালিকা থেকে যে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, তার মধ্যে একটি বড় অংশই হলো ‘বৈধ ভোটার’।

মমতার বিস্ফোরক অভিযোগ: সোমবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, “নির্বাচন কমিশন দিল্লিতে বসে বিজেপির তৈরি করা এআই সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নাম সামান্য এদিক-ওদিক হলেই ভোটারদের ‘ভ্যানিশ’ করে দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “বলা হচ্ছে এই ৫৮ লক্ষ মানুষ মৃত বা স্থানান্তরিত। কিন্তু আমি বলছি, এর মধ্যে হাজার হাজার মানুষ জীবিত এবং ওই এলাকাতেই থাকেন। তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।”

কেন এই এআই বিতর্ক? মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নামের বানান বা পদবীর ছোটখাটো ভুল খুঁজে বের করা হচ্ছে এবং কোনো শুনানি ছাড়াই তাঁদের নাম খসড়া তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, বিজেপির আইটি সেলের অঙ্গুলিহেলনেই কমিশন এই কাজ করছে, যাতে বিরোধী ভোটব্যাঙ্কে ধস নামানো যায়। বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক ভোটারদের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি বেশি উদ্বিগ্ন।

কমিশনের পাল্টা পদক্ষেপ: এই বিতর্কের মাঝেই নির্বাচন কমিশন পাল্টা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এসআইআর-এর কাজে গাফিলতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের ৭ জন এইআরও (AERO)-কে সরাসরি সাসপেন্ড করেছে কমিশন। কমিশনের দাবি, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, এই আধিকারিকদের সাসপেন্ড করা আসলে রাজ্য প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরির কৌশল।

সুপ্রিম কোর্টেও এই বিষয়টি নিয়ে মামলা চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তিনি এর শেষ দেখে ছাড়বেন এবং ভোটারদের অধিকার রক্ষায় রাজপথে আন্দোলনে নামবেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy