নির্বাচনে হেরেও সোজা প্রধানমন্ত্রীর কুর্তিতে! নওয়াজ শরিফের এই চালে ফুঁসে উঠল খোদ পাকিস্তান দলই

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের দোরগোড়ায় পৌঁছানো পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) দলের অন্দরেই এখন বিদ্রোহের সুর। বিতর্ক তৈরি হয়েছে কারণ, দলীয় সভাপতি নওয়াজ শরিফ সম্প্রতি পিওকে-র প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার ইফতিখার আলী গিলানির নাম ঘোষণা করেছেন, যিনি এবারের সাধারণ নির্বাচনে সরাসরি জনগণের ভোটে নিজের আসনে হেরে গিয়েছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মনোনয়ন ঘিরেই দলের অন্দরে অসন্তোষ চরমে উঠেছে। কারণ, ইফতিখার গিলানি শুধু এই নির্বাচনেই নন, এর আগের ২০২১ সালের নির্বাচনেও জয়ী হতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সরাসরি ভোটে জনসমর্থন না পেলেও পিএমএল-এন তাঁকে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের জন্য সংরক্ষিত একটি বিশেষ কোটার আসন থেকে বিধানসভায় নিয়ে আসে। আর সেই পেছনের দরজা দিয়ে আসা পরাজিত নেতাই এখন সরাসরি পিকের প্রধানমন্ত্রীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদের দৌড়ে এগিয়ে থাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। দলের ভেতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, যেখানে সাধারণ নির্বাচনে ভোটাররা যাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, তাঁকে কোন যুক্তিতে শীর্ষ আসনে বসানো হচ্ছে?
এই প্রতিযোগিতায় পিওকে-র পিএমএল-এন সভাপতি শাহ গোলাম কাদির এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দারের মতো অভিজ্ঞ ও হেভিওয়েট নেতারাও আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে হওয়া বৈঠকে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নওয়াজ শরিফ নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করে গিলানির নামেই চূড়ান্ত সিলমোহর দেন বলে অভিযোগ। দলের এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্ট সাংবাদিকরাও তীব্র ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, যখন পিওকে জুড়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন চলছে, ঠিক সেই সময়ে একজন পরাজিত ও বিতর্কিত নেতাকে মসনদে বসানোর সিদ্ধান্ত আগুনে ঘি ঢালার কাজ করবে।
যদিও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিধানসভায় পিএমএল-এন-এর হাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক ৩২টি আসন থাকায় এবং সরকার গড়ার ম্যাজিক ফিগার ২৭টি হওয়ায় দলের অন্দরে যতই অসন্তোষ থাকুক না কেন, নিরঙ্কুশ সংখ্যাফরিষ্তার জোরে গিলানির প্রধানমন্ত্রী হওয়া আটকানো কঠিন। তবে এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল যে ভবিষ্যতে নওয়াজ শিবিরের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।