২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার ঠিক আগেই শুরু হলো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজেট অধিবেশন। মঙ্গলবার শোকপ্রস্তাবের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হলেও, রাজনৈতিক মহলের সমস্ত নজর এখন আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির দিকে। ওই দিনই রাজ্যের অর্থ দফতর (স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত) চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আগামী অর্থবর্ষের জন্য ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ বা অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করতে চলেছেন।
শোকজ্ঞাপনের মাধ্যমে শুরু অধিবেশন: মঙ্গলবার অধিবেশনের প্রথম দিনটি ছিল মূলত শোকপ্রকাশের জন্য। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাক্তন বিধায়ক এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেন। এদিন প্রয়াত প্রাক্তন বিধায়ক উপেন কিস্কু, শীতল কুমার সর্দার থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্রের বর্ষীয়ান নেতা অজিত পওয়ার, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র এবং রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী অর্ঘ্য সেনের স্মৃতির উদ্দেশে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এক মিনিট নীরবতা পালনের পর সেদিনের মতো সভার কাজ মুলতুবি করে দেওয়া হয়।
বাজেট পেশ ও রাজ্যপালের ভাষণ: বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোস সংবিধানের ১৭৫(১) অনুচ্ছেদ মেনে তাঁর ভাষণ দেবেন। এরপর দুপুর ২টো ৩০ মিনিটে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ২০২৬-২০২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করবেন। নির্বাচনের আগে এটিই বর্তমান তৃণমূল সরকারের শেষ বাজেট হওয়ায়, সাধারণ মানুষের জন্য একাধিক জনমুখী প্রকল্পের ঘোষণা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পরবর্তী সূচি ও বিশেষ প্রস্তাব: বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাজ্যে ‘SIR’ (Special Intensive Revision) পরিচালনা সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিশেষ সরকারি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল জিএসটি (সংশোধনী) বিল’ পেশ এবং বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা সম্পন্ন হবে।
এবারের অধিবেশনে আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি। জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও মঙ্গলবার তিনি বিধানসভায় আসেননি। যদিও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ লাইব্রেরি ও স্ট্যান্ডিং কমিটিতে রাখা হয়েছে। বাজেট পেশের দিন তিনি সভায় উপস্থিত থাকেন কি না, সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।