নির্ধারিত সময়ের আগেই সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা! ইডির মুখোমুখি প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন

মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে চলা ১৬টি ভিন্ন ঠিকানায় ম্যারাথন তল্লাশি অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি (ED)-র দপ্তরে হাজিরা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী তথা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই কলকাতার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে অবস্থিত ইডি দপ্তরে এসে পৌঁছান তিনি। দুর্গাপুজোর প্রি-টিকিট বিক্রি এবং ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের জেরে তাঁকে তলব করেছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

সূত্রের খবর, গত মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতার কসবা, হাইল্যান্ড পার্ক, হিন্দুস্থান পার্ক এবং সিঙ্গুরের ‘মোহর’ বাগানবাড়ি সহ মোট ১৬টি আলাদা ঠিকানায় একযোগে অভিযান চালিয়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের পাশাপাশি তাঁর আত্মীয় ও ঘনিষ্ট ব্যক্তিদের বাসভবনেও চলে এই দীর্ঘ তল্লাশি। সেই অভিযানে উদ্ধার হওয়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নথি, ডিজিটাল প্রমাণপত্র এবং আর্থিক লেনদেনের কাগজপত্রের ভিত্তিতেই এদিন তাঁকে তলব করা হয়েছিল। সকাল ১১টার আগেই সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে প্রবেশ করেন তিনি। বর্তমানে তদন্তকারী আধিকারিকদের একটি উচ্চপর্যায়ের দল তাঁকে একটানা জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, মন্ত্রী পদে থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইউনেস্কোর হেরিটেজ ট্যাগকে হাতিয়ার করে ভ্যাটিকান সিটি ও দেশবিদেশের পর্যটক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছিল। দুর্গাপুজোর সময় ভুয়া পাস ও টিকিট বিক্রি করে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার একটি বিরাট কালো টাকার সাম্রাজ্য গড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই পুরো দুর্নীতির নেপথ্যে মূল চক্রী কে বা কারা এবং এই বেআইনি অর্থ লেনদেনের সঙ্গে আর কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা জড়িত, তার স্পষ্ট উত্তর খুঁজছেন ইডির গোয়েন্দারা। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই হাই-প্রোফাইল জিজ্ঞাসাবাদকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।