২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার মাঝেই ‘ভোটের দায়িত্ব কার?’— এই যক্ষ প্রশ্নে এবার রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালো কলকাতা হাইকোর্ট। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে বুধবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্তর কাছে সরাসরি জানতে চাইল, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দায়ভার আদতে কার? নির্বাচন কমিশনের নাকি রাজ্যের?
এদিন আদালতে সওয়াল-জবাব চলাকালীন পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাজ্যের এজি কিশোর দত্ত অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও কেন কেন্দ্রীয় সরকারের অঙ্গুলিহেলনে চলবে? তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, মামলাকারী একজন বিরোধী দলের সভাপতি হওয়ায় এই মামলাটি কেন্দ্রের ‘পরিকল্পিত চাল’ হতে পারে। পাল্টা প্রধান বিচারপতি জানতে চান, কাদের পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানে ভোট প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়, তা আগামী শুক্রবারের মধ্যে রাজ্যকে স্পষ্ট করতে হবে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন যে, কমিশনের নিরাপত্তা বলয় এতটাই আঁটোসাঁটো যে কোনও ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ বা ‘মনস্টারের’ পক্ষেও তা ভেদ করা সম্ভব নয়। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকারের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার আদালতকক্ষে কেন্দ্রীয় সংস্থা ও সরকারকে অপমান করছে। আগামী শুক্রবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি, যেখানে ঠিক হবে বাংলার ভোটের রাশ শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে।