নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজাসুজি বাড়ির ছাদের ওপর আছড়ে পড়ল অমরনাথ যাত্রীদের বাস! মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই ছড়াল হাহাকার

অমরনাথ যাত্রীদের বাস দুর্ঘটনা। মঙ্গলবার ভোরে জম্মু ও কাশ্মীরের গান্দেরবাল জেলার গুন্ডের কাছে হরিগনিওয়ানের এস-মোড অংশে অমরনাথ যাত্রী বোঝাই একটি বাস ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে, যার জেরে বেশ কয়েকজন তীর্থযাত্রী আহত হয়েছেন। পুণ্যার্থীদের অমরনাথের পবিত্র গুহা মন্দিরে নিয়ে যাওয়ার সময় বাসটি রাস্তা থেকে স্কিড করে সজোরে একটি বাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চালক একটি হেয়ারপিন বেন্ড ঘোরার সময় হঠাৎই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এর ফলেই বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে গিয়ে ঢাল বেয়ে নিচের দিকে গড়িয়ে একটি আস্ত বাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে এবং বাসের ধাক্কায় বাড়িটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়েছেন, ওই বাড়িটি থাকায় একটি মারাত্মক বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে, তা না হলে বাসটি সরাসরি সিন্ধু নদীর দিকে আরও গভীর খাদে গড়িয়ে পড়ত, সেক্ষেত্রে যাত্রীদের প্রাণরক্ষা করা কোনোভাবেই সম্ভব হত না। স্বস্তির বিষয় এই যে, দুর্ঘটনার সময় বাড়িটির ভেতরে কেউ উপস্থিত ছিল না, যার ফলে বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা মিলেছে। ঘটনার ভয়াবহতা প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটির ওপর বাসটি উল্টে পড়ে রয়েছে এবং নিরাপত্তা কর্মী, উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত আহত যাত্রীদের উদ্ধার করতে সেদিকে ছুটে যাচ্ছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় মানুষজন সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে সবার আগে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা। ভিডিওতেও উদ্ধার অভিযানের সেই দৃশ্য ধরা পড়েছে, যেখানে অ্যাম্বুলেন্সে করে আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ভারতীয় সেনাবাহিনী, সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ), ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (আইটিবিপি) এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের কর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যৌথভাবে অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান চালান।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে সমস্ত আহত যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধার করে ইতিমধ্যেই চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌভাগ্যবশত বেশিরভাগ যাত্রী সামান্য চোট পেয়েছেন। আহত এই তীর্থযাত্রীরা মূলত মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং দিল্লির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। প্রশাসন ইতিমধ্যেই সমগ্র দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে, যদিও ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। সমস্ত যাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করার পর প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে উদ্ধারকার্য সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, ভারতের অন্যতম বৃহত্তম এই বার্ষিক তীর্থযাত্রায় প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্ত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে যাতায়াত করেন।