নিট প্রশ্নফাঁস থেকে রামমন্দির অনুদান দুর্নীতি! উত্তাল সংসদে অমিত শাহের জবাব তলব বিরোধীদের!

সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হতেই একাধিক জনস্বার্থ সংক্রান্ত ও রাজনৈতিক ইস্যুতে তীব্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে কেন্দ্র ও বিরোধী শিবির। সাম্প্রতিক নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে প্রতিবাদী পড়ুয়াদের ওপর হওয়া পুলিশি অত্যাচারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের সরাসরি বিবৃতির দাবি তুলেছে বিরোধী পক্ষ। এই একটিমাত্র জোরালো ইস্যুকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকেই সংসদ চত্বর ও কক্ষের অন্দরে রাজনৈতিক পারদ চড়তে থাকে, যার জেরে গোটা অধিবেশন কার্যত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিট বিতর্কের পাশাপাশি এই প্রতিবাদের আগুনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে অযোধ্যার রামমন্দির নির্মাণে অনুদান সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ এবং জম্মু-কাশ্মীরের জন্য পুনরায় রাজ্যের পূর্ণ মর্যাদার জোরালো দাবি।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। দীর্ঘ সাত বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও উপত্যকাটি তার হারানো রাজ্যের মর্যাদা ফিরে না পাওয়ায় বিরোধীরা এদিন সংসদ চত্বরে প্রতিবাদ মিছিলে সরব হন। বুধবারের এই বিক্ষোভ ও স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠা লোকসভার অধিবেশন সামাল দিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত দুপুর দু’টো পর্যন্ত তা মুলতুবি ঘোষণা করতে বাধ্য হন স্পিকার।

অধিবেশনের শুরুতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বিরোধী সাংসদদের শান্ত হওয়ার আবেদন জানিয়ে বলেন, “প্রশ্নকাল বা কোশ্চেন আওয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এখানে সমস্ত সদস্যের সুযোগ পাওয়া উচিত। আমি আপনাদের অনুরোধ করছি প্রশ্নকালে সবাই সহযোগিতা করুন। এরপরে আপনাদের যা যা ইস্যু বা অভিযোগ রয়েছে, সেগুলির ওপর বিস্তারিত আলোচনা হবে। হাউজের ভিতরে বা বাইরে স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য কখনোই সঠিক পদক্ষেপ নয়।”

স্পিকারের এই সংযমের বার্তার পরেও বিরোধী শিবিরের ক্ষোভের আঁচ বিন্দুমাত্র কমেনি। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ ইন্ডিয়া জোটের বহু শীর্ষস্থানীয় সাংসদ সংসদ চত্বরের মকর দ্বার থেকে প্রেরণা স্থল পর্যন্ত মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি অব্দি এক দীর্ঘ প্রতিবাদী মিছিল করেন। এই হাই-প্রোফাইল মিছিলে কংগ্রেস সভাপতি তথা অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে স্বয়ং পা মিলিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কড়া জবাবদিহিতা দাবি করেন। তাছাড়া, এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর, সাগরিকা ঘোষ, লোকসভার তেজস্বী সাংসদ মহুয়া মৈত্র ছাড়াও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা এবং সমাজবাদী পার্টির একাধিক হেভিওয়েট সাংসদ এই মিছিলে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “সরকার পক্ষের এই মনোভাব সরাসরি সংসদকে অবমাননা করার সমান। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঝুলে থাকলেও ওঁরা সংসদের অন্দরে এসে জবাব দিচ্ছেন না। হাউজে এসে এই বিষয়ে একটি স্পষ্ট বিবৃতি দিতে সরকারের সমস্যা কোথায়?” তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “ওঁরা কি বোবা-কালা হয়ে গেছেন?”

অমিত শাহের কাছে জবাব চাওয়ার এই দাবির পাশাপাশি অযোধ্যা রামমন্দির তহবিলে অনুদান সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অভিনব প্রতিবাদ জানান নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদব। তিনি সংসদ চত্বরে একটি প্রতীকী অনুদান বাক্স নিয়ে হাজির হন, যাতে সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা গাঁদা ফুলের মালা পরিয়ে দেন। সেই বাক্সকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা স্লোগান তোলেন— “চান্দা চোর, গদ্দি চোর”, “অমিত শাহ জবাব দো” এবং “চান্দা চোর কাঁহা মিলেঙ্গে, বিজেপির দফতরে”! সবমিলিয়ে বাদল অধিবেশনের এই বুমেরাং পরিস্থিতিতে সরকারের ওপর চাপ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।