নিঝুম রাতে মমতার বাড়ির কাছেই রক্তক্ষয়ী তণ্ডবলীলীলা! অভিষেকের বাড়িতে দুষ্কৃতী হামলা, কালীঘাটে মারাত্মক উত্তেজনা!

কালীপুজো ও দীপাবলির ঠিক আগের রাতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আছড়ে পড়ল নজিরবিহীন এবং অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এক ঝড়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে গভীর রাতে এক ভয়াবহ দুষ্কৃতী হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার সরাসরি প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দিকে আঙুল তুলে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, “রাত দুটো নাগাদ একটি দুষ্কৃতী বাহিনী অভিষেকের বাড়িতে হামলা চালায় এবং ঐতিহ্যবাহী কালীপুজোর আয়োজনে বাধা দেয়। এখানে চরম গুণ্ডাগর্দি চালানো হচ্ছে।”
তৃণমূল নেত্রী আরও বলেন, “কালীঘাট আমাদের চিরদিনের এলাকা। এখান থেকে দেবী কালীর একাধিক ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা বের হয়। অথচ আমাদের বছরের পর বছর ধরে চলে আসা পুরনো পুজোর অনুমতি রাতারাতি বাতিল করে দিয়ে রাস্তার একদম মোড়ে নতুন পুজো করার বেআইনি অনুমতি দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই— যাতে আমাদের নিজস্ব পুজোয় যাওয়ার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়! আপনারা রাতে গুণ্ডা পাঠিয়ে হামলার চক্রান্ত করছেন কেন? যদি এতই হিম্মত থাকে, তবে দিনদুপুরে আসুন, আমার বুকের ওপর দিয়ে বুলডোজার চালিয়ে দিন, তাও আমরা মাথা নত করব না।” আমরা যে সর্বভারতীয়স্তরে ‘INDIA’ জোটে রয়েছি, তাতেই বিজেপির গা জ্বালা করছে বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ এই ঘটনা প্রসঙ্গে এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন। তিনি প্রকাশ্যেই দাবি করেন, গত মাত্র ছয় মাসের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর অন্তত সাত-সাতবার সুপরিকল্পিতভাবে প্রাণঘাতী হামলা চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং একজন গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী সাংসদের প্রাণসংশয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি ইতিমধ্যে লোকসভার স্পিকারের কাছে একটি জরুরি চিঠিও পাঠিয়েছেন। দীপাবলির মুখে কালীঘাটের মতো হাই-সিকিউরিটি জোনে এই মধ্যরাতের সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক উত্তাপ সমগ্র রাজ্য রাজনীতিকে এক ভয়ঙ্কর উদ্বেগের মুখে ঠেলে দিয়েছে।