মাত্র ২৪০ সেকেন্ডেই ম্যাজিক! ওষুধ ছাড়াই সুগার নিয়ন্ত্রণে আনবে ৩-৪ মিনিটের এই সহজ উপায়!

ব্যস্ত জীবনযাত্রা, মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে বিশ্বজুড়ে আজ মারণরোগের আকার নিয়েছে ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ। টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিনিয়ত ওষুধ, ডায়েট এবং কঠিন শরীরচর্চার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর গবেষণায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এক বিশাল আশার আলো দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, রক্তে শর্করার বিপজ্জনক মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিমে গিয়ে ঘাম ঝরানোর প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন মাত্র ৪ মিনিটের একটি বিশেষ ও স্বল্পমেয়াদি ব্যায়ামই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনবদ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সাময়িকীতে প্রকাশিত চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের এই গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও যদি উচ্চ-তীব্রতার শরীরচর্চা বা ‘হাই-ইন্টেনসিটি ইন্টারভাল ট্রেইনিং’ (HIIT) করা যায়, তবে তা শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা দ্রুত বাড়িয়ে তোলে। মাত্র ২৪০ সেকেন্ড বা ৪ মিনিটের এই বিশেষ শারীরিক সক্রিয়তা রক্তে থাকা গ্লুকোজকে দ্রুত পেশিতে শোষণ করতে সাহায্য করে, যার ফলে খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যায়। বিশেষ করে যাঁরা ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করার সুযোগ পান না, তাঁদের জন্য এই ৪ মিনিটের এক্সারসাইজ এক জাদুকরী দাওয়াই হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এই ৪ মিনিটের ব্যায়ামের জন্য কোনো দামি সরঞ্জামেরও প্রয়োজন নেই। বাড়িতে বসেই দ্রুত গতিতে সিঁড়ি ওঠা-নামা করা, এক জায়গায় দাঁড়িয়ে স্কোয়াট দেওয়া বা জোরে হাঁটার মতো সাধারণ কাজকেই ৪ মিনিটের জন্য হাই-ইন্টেনসিটি মোডে করা সম্ভব। গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, নিয়মিত যদি এই ৪ মিনিটের নিয়ম মেনে চলা যায়, তবে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ার পাশাপাশি হ্রদরোগের ঝুঁকিও অনেকটাই হ্রাস পায়। ডায়াবেটিস রোগীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এই ছোট্ট ৪ মিনিটের পরিবর্তন যে এক বিরাট বিপ্লব আনতে চলেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা।