‘গাড়ির ট্যাঙ্ক থেকে পেট্রল চুরি হচ্ছে!’ E20 পেট্রল নিয়ে বিস্ফোরক রাহুল গান্ধী, তোলপাড় দেশ

দেশে E20 পেট্রলের নামে সাধারণ মানুষের পকেট কেটে পেট্রল চুরি করা হচ্ছে— লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর এমনই এক বিস্ফোরক অভিযোগে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক তোলপাড় শুরু হয়েছে। কর্ণাটকের সাতটি জেলা থেকে সংগ্রহ করা পেট্রলের নমুনার ল্যাবরেটরি পরীক্ষার রিপোর্ট সামনে এনে রাহুল দাবি করেছেন, কেন্দ্র নির্ধারিত ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর যে নিয়ম রয়েছে, তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পেট্রলে ৩০ শতাংশেরও বেশি ইথানল মেশানো হচ্ছে।

“E20 হয়ে গিয়েছে 420!”— রাহুলের তোপ শনিবার সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে কেন্দ্রের ইথানল মিশ্রণ নীতিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বিরোধী দলনেতা। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, “E20 এখন 420-এ পরিণত হয়েছে! সাধারণ মানুষের গাড়ি থেকে সরাসরি পেট্রল চুরি করা হচ্ছে।” সরকারি ও বেসরকারি— উভয় ধরণের তেল বিপণন সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

রাহুল গান্ধীর পেশ করা তথ্য অনুযায়ী, বেঙ্গালুরু, কোলার, চিক্কাবল্লাপুর, বেঙ্গালুরু রুরাল, রামনগর, ম্যাঙ্গালুরু এবং তুমাকুরু— কর্ণাটকের এই ৭টি জেলা থেকে মোট ১৪টি নমুনা সংগ্রহ করে স্বাধীন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করানো হয়। যার মধ্যে ১১টি নমুনাতেই ইথানলের মাত্রা ২০ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গিয়েছে। ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL), নয়রা এনার্জি, ইন্ডিয়ান অয়েল (IOCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL)-এর পেট্রল নিয়ে এই সমীক্ষা চালানো হয়। দাবি করা হয়েছে, IOCL ও HPCL-এর নমুনায় যথাক্রমে ৩১.২ শতাংশ এবং ৩০.৫ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল মেলার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

এই প্রেক্ষাপটে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সরাসরি প্রশ্ন করেছেন, দেশের কোটি কোটি গাড়ির ট্যাঙ্কে আসলে কী ভরা হচ্ছে? সাধারণ মানুষ দামি পেট্রলের দাম দিয়েও কি তবে অতিরিক্ত ইথানল কিনছেন? নির্ধারিত সীমা ভাঙা সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেই প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি এই বিষয়ে প্রকাশ্য বিতর্কের চ্যালেঞ্জও জানিয়েছেন তিনি।

কর্ণাটক সরকারের ল্যাব রিপোর্ট ও টানাপোড়েন

পেট্রলে ইথানলের মাত্রা নিয়ে কর্ণাটক সরকার ও তেল সংস্থাগুলির মধ্যে টানাপোড়েন ইতিমধ্যেই চরমে পৌঁছেছে। কর্ণাটকের খাদ্য ও উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী রিজওয়ান আরশাদ জানান, বেঙ্গালুরুর NABL স্বীকৃত এবং ISO সার্টিফায়েড ‘শ্রীরাম রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এ নমুনা পরীক্ষা করিয়েই অতিরিক্ত ইথানলের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।

রাজ্য সরকারের দাবি, প্রথমে সংগৃহীত নমুনাগুলি IOCL এবং BPCL-এর নিজস্ব পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে ইথানলের নির্দিষ্ট শতাংশের উল্লেখ না থাকায় সন্দেহ বাড়ে এবং বাধ্য হয়েই নিরপেক্ষ তৃতীয় পক্ষের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করানো হয়।

অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিল তেল সংস্থাগুলি

অন্যদিকে, কর্ণাটক সরকার এবং রাহুল গান্ধীর উত্থাপিত সমস্ত অভিযোগ একযোগে খারিজ করেছে তিন রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থা— IOCL, BPCL এবং HPCL।

এক যৌথ প্রেস বিবৃতিতে সংস্থাগুলি জানিয়েছে, কর্ণাটক-সহ দেশের সর্বত্র সরবরাহ করা E20 পেট্রল ভারতীয় মান সংস্থা ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (BIS) ‘IS 17021’ মানদণ্ড মেরেই তৈরি করা হয়। পরীক্ষা ও নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলে তারা দাবি করেছে, নমুনা সংগ্রহের সময় তাদের কোনো প্রতিনিধিকে উপস্থিত রাখা হয়নি এবং পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ কারিগরি রিপোর্ট বা সংরক্ষিত নমুনাও তাদের হাতে দেওয়া হয়নি। ফলে অতিরিক্ত ইথানল মেশানোর এই অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অভাবযুক্ত বলে দাবি তেল সংস্থাগুলির।