‘আমার কালীপুজোয় কাউকে আসতে দেবে না,’-রাজপথে দাঁড়িয়ে ফুঁসে উঠলেন মমতা

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিনের রাতেই রণক্ষেত্রের রূপ নিল ঐতিহ্যবাহী কালীঘাট এলাকা। শুক্রবার মধ্যরাতে অভিষেকের বাড়ির সামনে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বাঁধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতভর টানটান উত্তেজনার পর শনিবার সকালে সোজা রাজপথে নেমে প্রীতি ও ক্ষোভে ফুঁসে উঠলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সাফ চ্যালেজ ছুঁড়ে দেন— “ক’টা বুলডোজার আছে আপনাদের? আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি, আমার বুকের ওপর দিয়ে বুলডোজার চালান!”

জন্মদিনের রাতেই ‘চোর’ স্লোগান, ইটবৃষ্টি ও রক্তপাত

ঘটনার সূত্রপাত ৭ নভেম্বর, শনিবার অভিষেকের জন্মদিন উপলক্ষে। প্রতি বছরের ন্যায় শুক্রবার মধ্যরাতেই সাংসদকে শুভেচ্ছা জানাতে কালীঘাট রোডে তাঁর বাসভবনের সামনে বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক এসে জড়ো হন। অভিযোগ, ঠিক সেই সময়েই সেখান দিয়ে যাওয়ার পথে একদল বিজেপি সমর্থক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে তীব্র ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।

মুহূর্তের মধ্যে দুই পক্ষের বচসা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। শুরু হয় ব্যাপক ইটবৃষ্টি, লাঠি ও বাঁশ নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশ বাহিনীকে। পরে পুলিশ বিশাল ব্যারিকেড গড়ে দুই পক্ষকে আলাদা করার চেষ্টা করলেও দু’দিক থেকেই লাগাতার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলতে থাকে। সংঘর্ষের জেরে অন্তত ৭ জন গুরুতর জখম হয়েছেন।

‘আমাকে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছে’: অভিষেকের বিস্ফোরক অভিযোগ

ঘটনার ভয়াবহতায় রাতভর বাড়ির সামনের রাস্তায় অবস্থানে বসে পড়েন সংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমাকে প্রাণে মারার চক্রান্ত হয়েছিল। বড় বড় ইট-পাথর ছোঁড়া হয়েছে। নেহাত দলীয় কর্মীরা লড়াই করে আজ আমায় রক্ষা করলেন।” নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও যোগ করেন, “আমার নিরাপত্তা নিয়ে আমি ভাবি না। সত্যি কথা বলার জন্য যদি আদালত অবমাননার মামলা হয়, তবে আমি হাজার বার জেলে যেতে রাজি। কিন্তু দেশের একজন সাংসদের ওপর যদি ৫ বার হামলা হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”

ভোর ৬টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে অবশেষে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন অভিষেক।

‘লুম্পেনদের রাত ৩টের হামলা, দরকার হলে সুপ্রিম কোর্টে যাব’: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

সকালে খবর পেয়েই অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাস্তায় দাঁড়িয়েই সাংবাদকদের মুখোমুখি হয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। কালীঘাট থানার পুলিশ অফিসারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “পুলিশের এত গাড়ি কেন? ওরা কি কিডন্যাপ করতে এসেছে? আমার বাড়িতে কালীপুজো রয়েছে, পাড়ার ক্লাবকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি। রাস্তা আটকে বেআইনিভাবে কাজ চলছে যাতে আমার পুজোতে কেউ না আসতে পারে।”

মমতা আরও যোগ করেন, “রাত ৩টের সময়ে যখন মানুষ ঘুমোয়, তখন এসে হামলা চালাচ্ছে লুম্পেনরা! কে দিল এই অধিকার? গণতন্ত্র কোথায়? পুলিশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে কাজ করে জানি, কিন্তু যখন লক্ষণরেখা পার হয়ে যায়, তা মেনে নেওয়া যায় না। দরকার হলে আমি নিজে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে দাঁড়াব। জনরোষ যখন বিস্ফোরণ ঘটাবে, তখন সামলাবেন কীভাবে?”

পরবর্তী আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে সমগ্র রাজ্য রাজনীতি এখন ফুটছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।