নিজের নামেই অপপ্রচার! ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

ভারতীয় ক্রিকেটের অবিসংবাদিত ‘মহারাজ’ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবার সোশ্যাল মিডিয়া ট্রোলিং ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটলেন। তাঁর সম্মানহানি এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে সোমবার ঠাকুরপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। সোশ্যাল মিডিয়ার এই অশুভ চক্রের বিরুদ্ধে তাঁর এই পদক্ষেপ ক্রিকেট মহলে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘Sourav Ganguly Fans’ নামে একটি ফেসবুক পেজ। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি ফ্যান পেজ হিসেবে পরিচিত হলেও, অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে এই পেজ থেকে এমন কিছু কনটেন্ট ও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে, যা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তৈরি। অভিযোগপত্রে ‘প্রিন্স অফ ক্যালকাটা’ স্পষ্ট জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করার একটি সুসংগঠিত চেষ্টা চালানো হচ্ছে। জনমানসে তাঁর সম্পর্কে পরিকল্পিতভাবে নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

যদিও এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নিজে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি, তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, একজন পাবলিক ফিগার হিসেবে তিনি ট্রোলিংয়ের সম্মুখীন হতে পারেন, কিন্তু মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অভিযোগপত্রে তিনি পরিষ্কার উল্লেখ করেছেন যে, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টগুলো কোনো বিশেষ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভাইরাল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর নেপথ্যে যারা রয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই অভিযোগ কেবল ব্যক্তিগত মানহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়ার ক্রমবর্ধমান অপব্যবহারের এক চরম নিদর্শন হিসেবে দেখছেন অনেকে। অভিযোগ পেয়েই ঠাকুরপুকুর থানা তদন্ত শুরু করেছে। কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। সাইবার বিশেষজ্ঞ ও পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এই ফেসবুক পেজটির আসল নেপথ্যে কারা রয়েছে।”

তদন্তের স্বার্থে পুলিশ সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাটির থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য তলব করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে সৌরভ-ভক্তদের মধ্যেও। তাঁদের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তার লড়াইয়ে কেন একজন লিজেন্ডকে এভাবে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে? পুলিশের তদন্তে যদি কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তবে বড় ধরনের আইনি শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে অভিযুক্তদের। এখন দেখার বিষয়, পুলিশের এই তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং অপরাধীরা কীভাবে ধরা পড়ে।