নার্সিংহোমে প্রেম, পরিণয়! স্ত্রীকে প্রতারণা করে ১১ লক্ষ টাকায় কিডনি বিক্রির চেষ্টা স্বামীর, কলকাতায় হাতেনাতে গ্রেফতার ৪

প্রেম ও পরিণয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক ভয়াবহ প্রতারণার ঘটনা সামনে এল। পূর্ব মেদিনীপুরের বেতকুন্ডুর বাসিন্দা দেবযানী তাঁর স্বামী কার্ত্তিক চক্রবর্তীর (নন্দকুমারের বাসিন্দা) বিরুদ্ধে তাঁকে ভুল বুঝিয়ে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ১১ লক্ষ টাকায় কিডনি বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কার্ত্তিক সহ মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।
১১ লক্ষ টাকার চুক্তি ও মধ্যস্থতাকারী
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত কার্ত্তিক চক্রবর্তীর প্যাথল্যাবের ব্যবসা রয়েছে। তিনি এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ১১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে স্ত্রীয়ের কিডনি বিক্রির চুক্তি করেছিলেন।
অগ্রিম গ্রহণ: চুক্তির অংশ হিসেবে কার্ত্তিক ইতিমধ্যেই ওই মধ্যস্থতাকারীর কাছ থেকে ১.৫ লক্ষ টাকার অগ্রিম নিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হাসপাতালে তৎপরতা: অভিযোগ অনুযায়ী, কলকাতার ওই নামকরা বেসরকারি হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপনের কাজ প্রায় শুরু হয়ে গিয়েছিল। দেবযানী নিজেই পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।
গ্রেফতার: এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই মামলার সঙ্গে জড়িত কার্ত্তিক সহ মোট ৪ জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
কিডনি পাচার চক্রের সন্দেহ
পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, এটি শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি শহরের নামীদামী বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে কোনো বৃহত্তর কিডনি পাচারচক্র জড়িত রয়েছে। মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপনের আইনি প্রক্রিয়াকে ফাঁকি দিয়ে টাকার বিনিময়ে এই ধরনের কার্যকলাপ চলছিল কি না, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
হাওড়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই হাওড়ার সাঁকরাইলে এরকমই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছিল। সেবার এক মহিলা তাঁর স্বামীকে ভুল বুঝিয়ে কিডনি বিক্রি করে সেই টাকা ও গয়না নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়েছিলেন। পরে প্রতারিত স্বামী পিন্টু বাজ আইন ও আদালতের দ্বারস্থ হন।