নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে, দেশের কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন!

ভারতের বেকারত্বের হার আগস্ট মাসে ধারাবাহিকভাবে কমে ৫.১% -এ দাঁড়িয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। সংখ্যাতত্ত্ব এবং কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রণালয় (এমওএসপিআই)-এর প্রকাশিত শ্রমশক্তি সমীক্ষা (পিএলএফএস) অনুযায়ী, এই হার জুন মাসের ৫.৬% থেকে কমে জুলাইয়ে ৫.২% এবং আগস্টে ৫.১% -এ পৌঁছেছে। এই তথ্যগুলো দেশের শ্রমবাজারের পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের চিত্র
সামগ্রিক চিত্র: সামগ্রিক বেকারত্বের হার ৫.১% হলেও, ১৫ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের মধ্যে এটি ৫.০% -এ নেমে এসেছে, যা এপ্রিল ২০২৫-এর পর সর্বনিম্ন।
শহুরে ও গ্রামীণ: শহুরে বেকারত্ব জুলাইয়ের ৬.৬% থেকে কমে এসেছে। গ্রামীণ বেকারত্ব ৪.৫% এবং শহুরে ৬.৫% -এর মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।
নারী শ্রমশক্তির অংশগ্রহণ: নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগস্ট মাসে গ্রামীণ এলাকায় নারীদের এলএফপিআর (শ্রমশক্তি অংশগ্রহণ হার) ৩৮.২% ছাড়িয়ে গেছে, যা আগের মাসগুলোর তুলনায় যথেষ্ট বেশি। শহুরে নারীদের মধ্যে এই হার ৫০.৪%।
এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ যেমন ‘বেটি বচাও বেটি পড়াও’, ‘স্কিল ইন্ডিয়া’ এবং ‘মহিলা সশক্তিকরণ’ কর্মসূচিগুলোর ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত ও চ্যালেঞ্জ
অর্থনীতিবিদরা এই তথ্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। অর্থনৈতিক বিশ্লেষক রাজিব কুমার বলেছেন, “বেকারত্বের হার কমা এবং নারী অংশগ্রহণ বাড়া দেশের জিডিপি গ্রোথকে ত্বরান্বিত করবে।”
তবে, কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ১৫-২৯ বছর বয়সী যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার এখনো ১৩.৮%। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুবকদের জন্য আরও ভালো গুণগত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়াও, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে, যাতে যুবকরা আন্তর্জাতিক স্তরের চাকরির জন্য প্রস্তুত হতে পারে। সরকার জানিয়েছে, ‘স্কিল ইন্ডিয়া মিশন’-এর অধীনে ৪ কোটিরও বেশি যুবক-যুবতীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা এই সমস্যা মোকাবিলায় সাহায্য করবে।