নারী রাজনীতি নিয়ে বিস্ফোরক দাবি পাপ্পু যাদবের, বিতর্কের মাঝেই প্রচারে গিয়ে অসুস্থ সাংসদ!

স্বতন্ত্র সাংসদ পাপ্পু যাদবের একটি মন্তব্যে দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিয়ে এমন এক দাবি করেছেন, যাকে ‘চরম নারীবিদ্বেষী’ এবং ‘যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ’ বলে ব্যাখ্যা করছেন বিশেষজ্ঞ ও সমাজকর্মীরা।

কী বলেছিলেন পাপ্পু যাদব?

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদ দাবি করেন, ভারতে নারীদের দেবীর মর্যাদা দেওয়া হলেও বাস্তবে চিত্রটা ভিন্ন। তাঁর কথায়, “ভারতে ৯০ শতাংশ নারী রাজনৈতিক জীবন শুরু করতে পারেন না যদি না তাঁরা রাজনৈতিক নেতাদের ঘরে প্রবেশ করেন।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিতর্ক। বিরোধী দল থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক— সকলেই একযোগে তোপ দেগেছেন সাংসদের বিরুদ্ধে। তাঁদের মতে, এটি শুধু নারীদের অপমান নয়, বরং তাঁদের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতি এক বিরাট আঘাত।

পাল্টা চ্যালেঞ্জ ও নতুন বিতর্ক

বিতর্ক শুরু হতেই নিজের অবস্থানে অনড় থেকে পাপ্পু যাদব দাবি করেন, তাঁর কাছে কিছু প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে এক কমিশনের সদস্য সাজল ঝা-র আপত্তিকর ছবি রয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যাঁরা কাঁচের ঘরে থাকেন, তাঁদের উচিত নয় অন্যের দিকে পাথর ছোড়া।” তাঁর এই মন্তব্য বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

প্রচারে গিয়ে অসুস্থ সাংসদ

এদিকে, এই বিতর্কের রেশ কাটার আগেই মালদায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন পাপ্পু যাদব। জানা গেছে, প্রচণ্ড গরমে হিটস্ট্রোকের কবলে পড়েন তিনি। বর্তমানে তাঁকে চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

নারী সংরক্ষণ বিলের আবহে উত্তাপ

পাপ্পু যাদবের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক চলছে। উল্লেখ্য, বিলটি লোকসভায় ২৯৮ ভোটে পাশ হলেও প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৩৫২ ভোট) না পাওয়ায় তা আটকে গিয়েছে। ৫২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২৩০ জন বিলটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।

সাংসদ হিসেবে পাপ্পু যাদবের এই মন্তব্য নারী অধিকার নিয়ে লড়াই করা আন্দোলনকারীদের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy