আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মঞ্চ থেকে বাংলার নারীশক্তির জয়গান গাইলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের মহিলাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে তাঁর সরকার যে বদ্ধপরিকর, তা এদিন ফের স্পষ্ট করে দেন তিনি। বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সাফল্য যে নারী ক্ষমতায়নের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে স্বনির্ভরতার এক নতুন বার্তা পৌঁছে দিলেন বাংলার ঘরে ঘরে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলার মা-বোনেরা আজ কারও মুখাপেক্ষী নন। তাঁদের হাতে আজ নিজস্ব ক্ষমতা রয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার শুধু একটি সরকারি প্রকল্প নয়, এটি মহিলাদের আত্মমর্যাদার প্রতীক। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের কোটি কোটি মহিলা প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন, যা তাঁদের দৈনন্দিন ছোটখাটো প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি সঞ্চয়েও সাহায্য করছে।
নারী দিবসের এই বিশেষ দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রূপশ্রী, কন্যাশ্রী এবং সবুজ সাথীর মতো প্রকল্পগুলির সুবিধাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, কন্যাশ্রীর মাধ্যমে যেমন বাল্যবিবাহ রোধ করা সম্ভব হয়েছে, তেমনই রূপশ্রী প্রকল্পের অনুদান গরিব পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে বড় সহায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর মতে, যখন একটি মেয়ে শিক্ষিত হয় এবং আর্থিকভাবে স্বাধীন হয়, তখন পুরো সমাজ এগিয়ে যায়।
বিরোধীদের সমালোচনাকে আমল না দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বাংলা আজ যা করে, ভারত কাল তা ভাবে। নারী নিরাপত্তায় এবং তাঁদের অধিকার রক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে মডেল তৈরি করেছে, তা সারা বিশ্বের কাছে উদাহরণ। সভা শেষে তিনি বাংলার নারী সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং বলেন, আগামী দিনে আরও নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের হাত শক্ত করবে রাজ্য সরকার।