নাবালিকার সম্মতিতে সহবাস, ‘আইনের চোখে গ্রহণযোগ্য নয়’, নিম্ন আদালতের যাবজ্জীবন সাজা বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট।

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নাবালিকার সঙ্গে সহবাস এবং প্রতারণার একটি মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজা শেখর মান্থা ও বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও মামলার বিবরণ

  • অপরাধের প্রকৃতি: আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, নাবালিকার সম্মতিতে যৌন সম্পর্ক স্থাপন আইনের চোখে গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষত, যেখানে অভিযুক্ত নাবালিকাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং পরে সেই প্রতিশ্রুতি অস্বীকার করে।

  • ঘটনা: কলকাতা হাইকোর্ট সূত্রে জানা যায়, নারকেলডাঙা থানা এলাকার এক নাবালিকার সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নাবালিকার বয়স যখন ১৫ বছর ৪ মাস, সেই সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বাড়িতে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে। পরে মধ্য কলকাতার একটি হোটেলেও এই সম্পর্ক বজায় ছিল।

  • প্রতারণা ও অভিযোগ: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার পর মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে অভিযুক্তের পরিবার বিয়ের প্রতিশ্রুতি অস্বীকার করে। বাধ্য হয়ে নাবালিকার পরিবার নারকেলডাঙা থানায় পকসো (POCSO) আইনে অভিযোগ দায়ের করে।

  • মামলা: অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪ ধারা এবং যৌন অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা আইনের (পকসো) ৬ ধারার অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছিল।

নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টের রায়

  • শিয়ালদা কোর্টের রায় (২০১৮): অভিযুক্তের পক্ষ থেকে এফআইআর দায়ের করতে বিলম্বের যুক্তি দেওয়া হলেও আদালত তা গ্রহণ করেনি। আদালতের বক্তব্য ছিল, একটি ১৪-১৫ বছর বয়সী নাবালিকা পরবর্তী ফলাফল অনুধাবন করতে ভুল করতে পারে। শিয়ালদা কোর্ট অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছিল।

  • হাইকোর্টের রায় (২০২৫): এদিন হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় অর্থাৎ অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ বহাল রাখে। একই সঙ্গে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে অভিযুক্তকে ১৫ দিনের মধ্যে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা হিসেবে জমা দিতে হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy