নাবালিকার ‘প্রেম’ মানেই যৌন সম্পর্কে ‘সম্মতি’ নয়! যুগান্তকারী রায়ে যাবজ্জীবন বহাল রাখল কলকাতা হাই কোর্ট

প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনকে কোনোভাবেই ‘সম্মতি’ হিসেবে ধরা যায় না। সম্প্রতি এমনই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করে এক নাবালিকাকে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা ও যৌন হেনস্থার মামলায় অভিযুক্ত যুবকের যাবজ্জীবন সাজা বহাল রাখল কলকাতা হাই কোর্ট।
হাই কোর্টের কড়া বার্তা ও মামলার বিবরণ:
বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা (ধর্ষণ) এবং পকসো আইনের ৬ ধারায় গুরুতর অভিযোগ ছিল। নিম্ন আদালত তাকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছিল। সেই সাজা বাতিলের আবেদন নিয়ে হাই কোর্টে এলেও আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়: নাবালিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও তা যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো বৈধতা দিতে পারে না।
তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্ত যুবক ২০১৪ সাল থেকে নাবালিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিল। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে যখন মেয়েটি মাত্র ১৪ বছর বয়সী, তখন প্রথমবার তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। এরপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত বারবার নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে যায়, যদিও মেয়েটি বাধা দিয়েছিল বলে অভিযোগ। ২০১৭ সালে নির্যাতিতা গর্ভবতী হয়ে পড়লে বিষয়টি তাঁর পরিবারের কাছে প্রকাশ পায়। অভিযুক্ত এবং তার পরিবার কোনো দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করায় নারকেলডাঙা থানায় এফআইআর দায়ের হয়।
প্রমাণ ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশ:
কলকাতা হাই কোর্ট জানায়, নির্যাতিতার বয়ান এবং ডিএনএ সহ বৈজ্ঞানিক প্রমাণগুলি স্পষ্ট করে যে একাধিকবার যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। হাই কোর্ট সুপ্রিম কোর্টের একটি রায় উল্লেখ করে জানায় যে, নাবালিকার বয়ান বিশ্বাসযোগ্য হলে অন্য কোনো প্রমাণের প্রয়োজন হয় না। আদালত আরও জানায় যে মেয়েটি বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করেছিল এবং গর্ভবতী হওয়ার পরেই ভয়ে পরিবারকে সব জানায়, তাই এফআইআর দায়ের হতে দেরি হওয়া যৌক্তিক।
আদালতের নির্দেশে নিম্ন আদালতের যাবজ্জীবন সাজার রায় বহাল থাকল। পাশাপাশি, আদালত স্টেট লিগ্যাল সার্ভিস অথরিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং অভিযুক্তকে অতিরিক্ত ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। অভিযুক্ত যদি বর্তমানে জামিনে থাকে, তবে তাকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণ করতে হবে।