নাড্ডার টেবিলে সৌগত-শত্রুঘ্ন! সংসদের অন্দরে এই দুই বিস্ফোরক ছবি সামনে আসতেই তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা

সংসদের বাদল অধিবেশন চলাকালীন রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গন হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর ছবিকে কেন্দ্র করে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে সামনে আসা দুটি আলাদা ছবি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার পারদ চড়িয়ে দিয়েছে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে সংসদ ভবনের অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে আয়োজিত টিবি সংক্রান্ত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে। সেখানে বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে একই টেবিলে পাশাপাশি বসে খাবার খেতে দেখা যায় তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা এবং প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়কে। যদিও সৌগত রায় কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে বসেছিলেন, তবুও জেপি নাড্ডার সঙ্গে শত্রুঘ্ন সিনহার এই দীর্ঘ কথোপকথন এবং একই ফ্রেমে তৃণমূল সাংসদদের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এই প্রথম ধাক্কা সামলানোর রেশ কাটতে না কাটতেই ঠিক তার পরের দিন সংসদ চত্বরে সামনে আসে আরও একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছবি। দ্বিতীয় ছবিটিতে দেখা যায়, প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় এনসিপিআইয়ের দুই হেভিওয়েট সাংসদ আবু তাহের ও খলিলুর রহমানের সঙ্গে এক ফ্রেমে অত্যন্ত খোশমেজাজে হাসিঠাট্টায় মেতে রয়েছেন। এই সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে খুব দ্রুত রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, আবু তাহের ও খলিলুর রহমান নাকি দল বদল করে ফের পুরনো দল তৃণমূলে ফিরে আসার কথা ভাবছেন। যদিও এই জল্পনা খারিজ করে দিয়ে ওই দুই সাংসদ সংসদে দাঁড়িয়ে জোরালোভাবে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁরা এনডিএ-র শরিক হিসেবে এনসিপিআই দলীয় ফোরামেই বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সাক্ষাতের নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে অত্যন্ত জটিল কিছু সংখ্যাতত্ত্বের সমীকরণ। অতীতে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে প্রায় ২০ জন সাংসদ এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছিলেন, এবং বর্তমান দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে তাঁদের ন্যূনতম ১৯ জনের জাদুকরী সংখ্যা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। যদি আবু তাহের বা খলিলুর রহমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংসদরা শেষ পর্যন্ত তৃণমূলে ফিরে যান, তবে এনসিপিআইয়ের সেই প্রয়োজনীয় সংখ্যা কমে যাবে এবং তখন বড় বিপদে পড়তে পারেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো হেভিওয়েট নেতারা। এরই মধ্যে আবার পালটা গুঞ্জন জোরালো হয়েছে যে, কালীঘাটের তৃণমূল নেতৃত্বের ছায়ায় থাকা আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহাকে এনসিপিআইয়ে টেনে নেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা চলছে, যাতে দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ১৯ জনের সংখ্যাটি কোনোভাবেই হাতছাড়া না হয়। সামগ্রिकভাবে, একদিকে জেপি নাড্ডার সঙ্গে শত্রুঘ্ন-সৌগতর সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ এবং অন্যদিকে বিদ্রোহী বা ভিন্ন শিবিরের সাংসদদের সঙ্গে সৌগত রায়ের এই মাখামাখি—সব মিলিয়ে বাংলার শাসকদলের অন্দরের গোপন রাজনৈতিক অঙ্ক এখন চরম মাত্রায় পৌঁছেছে, আর গোটা রাজধানী জুড়ে সবার নজর এখন এই পরিস্থিতির পরবর্তী বাঁকের দিকে।