নাক দিয়ে জল ঢুকলেই বিপদ’, কেরলে ‘ব্রেন-ইটিং অ্যামিবা’য় বাড়ছে মৃত্যু, কী বলছে স্বাস্থ্য দফতর?

কেরলে বিরল এবং মারাত্মক মস্তিষ্কের সংক্রমণ ‘অ্যামিবিক মেনিনজোএনসেফালাইটিস’ (Amoebic Meningoencephalitis) আবারও নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সম্প্রতি তিরুঅনন্তপুরমের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের এই সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যার জেরে আক্কুলাম ট্যুরিস্ট ভিলেজের সুইমিং পুলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, ওই কিশোর তার বন্ধুদের সঙ্গে সেই পুলে স্নান করেছিল।

উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান

কেরলের স্বাস্থ্য দফতর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে এই রোগে ৬৭টি কেস নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি এক মাসের মধ্যে এটি পঞ্চম মৃত্যু, যা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক করেছে। মালাপ্পুরম জেলার ৫৬ বছর বয়সী শোভনা এবং সুলতান বাথেরির ৪৫ বছর বয়সী রথীশ—এই দুজনেরই কোঝিকোড় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।

‘ব্রেন-ইটিং অ্যামিবা’ ও তার লক্ষণ
এই রোগের জন্য দায়ী জীবাণু হলো নাইগ্লেরিয়া ফোলেরি (Naegleria fowleri), যা ‘ব্রেন-ইটিং অ্যামিবা’ নামে পরিচিত। এটি দূষিত জলের মাধ্যমে নাক দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে এবং সরাসরি মস্তিষ্কের টিস্যু নষ্ট করতে শুরু করে। এই সংক্রমণ সাধারণত এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে ছড়ায় না এবং দূষিত জল পান করলে এর ঝুঁকি নেই। শুধুমাত্র নাক দিয়ে জল ঢুকলেই সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে।

প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণত সংক্রমণের ১ থেকে ১২ দিনের মধ্যে দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা, জ্বর, বমি বা বমিভাব। রোগ বাড়লে গলা শক্ত হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি, হ্যালুসিনেশন এবং এমনকি কোমাতেও চলে যেতে পারেন রোগী।

প্রতিরোধের উপায়
কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ এই রোগ প্রতিরোধের জন্য জনসাধারণকে সতর্ক করেছেন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন:

বদ্ধ বা দূষিত জলে মুখ ধোবেন না বা স্নান করবেন না।

বাড়ির কুয়ো ও জলের ট্যাঙ্ক নিয়মিত বৈজ্ঞানিকভাবে ক্লোরিনেট করুন।

ওয়াটার থিম পার্কের সুইমিং পুলগুলোও সঠিকভাবে ক্লোরিনেট এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।

তিনি বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন, “এই অ্যামিবা আপনার নাকের মাধ্যমে মস্তিষ্কে প্রবেশ করে, তাই নিশ্চিত করুন যে জল আপনার নাকে প্রবেশ না করে।”

চিকিৎসার ক্ষেত্রে অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হলেও, এই রোগের কোনো নিরাময়যোগ্য চিকিৎসা এখনো পর্যন্ত নেই। তাই সচেতনতা ও প্রতিরোধই একমাত্র উপায়।