প্রশাসনিক স্তরে এবার বড়সড় ‘অপারেশন’ শুরু করল নতুন রাজ্য সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আমলাতান্ত্রিক কাঠামোয় স্বচ্ছতা আনতে বেনজির পদক্ষেপ নিল স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর। এক কড়া নির্দেশিকা জারি করে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাজ্যের সমস্ত অ-বিধিবদ্ধ সংস্থা, পর্ষদ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত উদ্যোগের মনোনীত সদস্য ও চেয়ারম্যানদের মেয়াদ অবিলম্বে শেষ করা হলো। অর্থাৎ, এক লহমায় কয়েকশো প্রভাবশালী পদাধিকারীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিল নবান্ন।
সরকারের এই নির্দেশে প্রশাসনিক মহলে রীতিমতো হুলুস্থুল পড়ে গিয়েছে। কেবল মনোনীত সদস্যরাই নন, যে সমস্ত উচ্চপদস্থ আধিকারিক চুক্তিভিত্তিতে (Contractual) কাজ করছিলেন, তাঁদেরও পুনর্নিয়োগ বা মেয়াদের আবেদন সরাসরি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, বর্তমান কাঠামোর খোলনলচে বদলে ফেলে নতুন ভাবে কাজ শুরু করতে চায় সরকার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিবর্গ যাঁরা বিভিন্ন পর্ষদ বা কর্পোরেশনের শীর্ষে ছিলেন, তাঁদের ছেঁটে ফেলতেই এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিয়েছে শুভেন্দু সরকার। প্রশাসনের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রেই দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় এই ‘শুদ্ধিকরণ’ প্রক্রিয়া জরুরি ছিল বলে মনে করছে নতুন মন্ত্রিসভা।
স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও কমিশনের শীর্ষ পদে নতুন মুখ দেখা যেতে চলেছে। একদিকে যেমন শিল্প ও প্রশাসনিক গতি ফেরানোর দাবি করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে চুক্তিভিত্তিক আধিকারিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সব মিলিয়ে, ক্ষমতায় এসেই নবান্নের প্রতিটি তলায় যে বড়সড় রদবদল ঘটতে চলেছে, এই নির্দেশিকা তারই স্পষ্ট সংকেত। ডেইলিয়ান্ট-এর পাতায় চোখ রাখুন এই সংক্রান্ত পরবর্তী খবরের জন্য।





